মির্জাপুরে শিশু গণধর্ষণের শিকার, তিনদিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৬:০৮
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে বখাটেদের হাতে তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
পুলিশের দাবি, ঘটনার পর বখাটেরা এলাকা থেকে সটকে পড়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের রাজাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা গেছে, গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী রাজা বাড়ি মঈন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। করেন। ধর্ষণকারীদের মধ্যে বখাটে খোকন ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা।
 
বৃহস্পতিবার ছাত্রীর মা জানান, দুই মেয়ে নিয়ে তিনি রাজাবাড়ি এলাকায় প্রথমে গার্মেন্টসে কাজ করতেন এবং স্বামী দিন মজুর ও শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। স্বামী তাকে ও তার দুই মেয়েকে ফেলে চলে যাওয়ায় দুই মেয়ে নিয়ে তিনি রাজাবাড়ি কলেজ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে থাকেন। মঙ্গলবার ছোট গবড়া গ্রামের খোকন (২০) তার বন্ধু রাজাবাড়ি গ্রামের রিপন (১৯) এবং মনিরসহ (১৯) কয়েকজন বখাটে মিলে তার মেয়েকে বাড়িতে একা পেয়ে গণধর্ষণ করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
 
৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বখাটে খোকন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে দাপট দেখিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে।
 
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘ভিকটিমের পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।’
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই অমানবিক। শিশুটিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ