প্রাণী শূন্য হয়ে পড়ছে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানা। গত একযুগে চিড়িয়াখানার প্রাণীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাঘ, সিংহ, মায়া হরিণ থেকে শুরু করে অনেক প্রাণী মারা গেছে। চিড়িয়াখানার ভেতরে কাঠামোগত উন্নয়নের পরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত পশু-পাখি না থাকায় দর্শনাথীদের মধ্যে হতাশাও লক্ষ্য করা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০০৩ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় যেসব প্রাণী ছিলো সেগুলো হলো- দুইটি সিংহ, একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ১৯৪টি চিত্রা হরিণ, দুইটি মায়া হরিণ, ২৬টি বানর, নয়টি বেবুন, চারটি গাধা, দুইটি ভালুক, একটি ঘোড়া, দুইটি সাদা ময়ুর, তিনটি দেশি ময়ুর, ৮৫টি তিলা ঘুঘু, ৬৮টি দেশি কবুতর, ২৮টি বালিহাঁস, দুইটি ওয়াকপাখি, একটি পেলিকেন, ছয়টি টিয়া, চারটি ভুবন চিল, চারটি বাজ পাখি, একটি হাড়গিল, তিনটি হুতুম পেঁচা, নয়টি শকুন, দুইটি উদবিড়াল, তিনটি ঘড়িয়াল ও একটি অজগর।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া বর্তমান তথ্যানুযায়ী এসব প্রাণির অর্ধেকও নেই। সিংহ, সাদা ময়ূর, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচা ফাঁকা পড়ে আছে। চিত্রা হরিণের সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ কমে গেছে। কমেছে বেবুন, ঘড়িয়াল, ভাল্লুকের সংখ্যা। বর্তমানে যেসব প্রাণি আছে সেগুলো হলো- সাতটি গাধা, ২০টি বানর, দুইটি বেবুন, দুইটি হনুমান, একটি মায়া হরিণ, ৪৪টি চিত্রা হরিণ, দুইটি মেছো বাঘ, চারটি গন্ধ গোকুল, একটি ভালুক, ৩০টি খরগোশ, একটি হুতুম পেঁচা, একটি হাড়গিল, ৪৮টি রাজহাঁস, ১০টি বালিহাঁস, প্রায় ২০০টি তিলা ঘুঘু, দুইটি পাতিহাঁস, ১১০টি হাইব্রিড কবুতর, একটি কালিম পাখি, সাতটি চখা, দুইটি ঘড়িয়াল, একটি অজগর, সাতটি কচ্ছপ, ৩০টি বক, দুইটি সাদা বড় বক, একটি ওয়াক পাখি, একটি পেলিকেন, একটি চিল, একটি মুরাল মাছ ও দুইটি বনবিড়াল।
প্রাণী গুলো অল্প সময়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার তত্বাবধায়ক আব্দুল হাই জানান, শুধু প্রাণী আমদানি করলেই হবে না, তাদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং একটি পুরুষ ও একটি মেয়ে প্রাণী রেখে তাদের মধ্যে আন্তপ্রজননের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব না করা হলে অল্প বয়সেই প্রাণীরা মারা যাবে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত যেসব প্রাণী মারা গেছে সেগুলোর বেশিরভাগ বয়স বৃদ্ধির কারণে মারা গেছে। ময়ূর সাধরণত ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে, কিন্তু আমাদের ময়ূরটি ২২ বছর বেঁচে ছিল। দর্শনার্থী কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, কাঠামো উন্নয়নের পরে অধিক হারে দর্শনার্থী হচ্ছে, ফলে লাভের পরিমাণও বেশি হচ্ছে। যে প্রাণি গুলোকে উদ্ধার করে আনা হয়, সেগুলো প্রথম দিকে অসুস্থ থাকলেও চিকিত্সা দিয়ে সুস্থ করা হয় বাকি সব প্রাণি সুস্থ আছে বলেও জানান তিনি।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় সপরিবারে আসা লতিফুর রহমান জানান, ছুটির দিনে শিশুদের নিয়ে নিয়মিত চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন। চিড়িয়াখানা একটি নিরিবিলি পরিবেশ, অনেক খেলনা বাচ্চাদের জন্য ফ্রি রাখা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে অনেক আনন্দ হয়। তবে নতুন নতুন পশু-পাখির নিয়ে আসলে আনন্দ আরো বেশি হবে বলে জানান তিনি।
দর্শনার্থী নগরীর উপশহর এলাকার আঞ্জুআরা বলেন, বড় প্রাণি চিড়িয়াখানায় নেই বললেই চলে। ঘুঘু, কবুতরের মতো সাধারণ পাখিগুলো দিয়ে খাঁচা ভরিয়ে রাখা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।
