কুষ্টিয়ায় সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে দুই আওয়ামী লীগ নেতার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রামে বিবদমান ওই দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ফলে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে। হামলা চলাকালে কমপক্ষে ২০/২৫টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। নিহতরা হলেন- ইমান আলী (৩৫) ও শাহাবুদ্দিন (৪২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেরামত আলী এবং একই ইউনিয়নের প্রাক্তণ চেয়ারম্যান ও ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের মধ্যে চরম টানাপোড়েন ও বিরোধ চলছিল। এছাড়া এ সংঘর্ষের আগে গত ১০ দিনের ব্যবধানে ঝাউদিয়ার তিনটি গ্রামে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকাল ৬ টারদিকে কেরামত আলীর সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রামে প্রবেশ করে। এসময় বখতিয়ার গ্রুপের সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কেরামত গ্রুপের সমর্থক ইমান আলী দেশীয় ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গুরুতর আহত শাহাবুদ্দিন কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান। ইমান আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাছপাড়া গ্রামে এবং শাহাবুদ্দিনের বাড়ি বৈদ্যনাথপুর গ্রামে।
আহতেদর মধ্যে ছয়জনকে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতদের মধ্যে পিঠে ফলাবিদ্ধ সেকেন ও আকালের অবস্থা আশংকাজনক বলে হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার জানান।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে মাছপাড়া গ্রামের ২০/২৫টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় ওই গ্রামে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং আতংকিত শত শত নারী-পুরুষ প্রাণভয়ে ছুটাছটি করতে থাকে। বর্তমানে ওই গ্রামে চরম ভীতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে মাছপাড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আ্ইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দোষীদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। খুব শিগগির জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
