কোরবানি : পশুর উচ্ছিষ্ট থেকে আসতে পারে ৬৫ কোটি টাকা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২০:৫২
কোরবানি পশুর যেসব উচ্ছিষ্ট ফেলে দেয়া হয়, সেগুলো ফেলনা নয়। ফেলে দেয়া এসব উপাদান থেকে বছরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। শনিবার রাজধানীতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
 
বক্তারা বলেন, সারা দেশে বছরে যে পরিমাণ পশু জবাই হয়, তার প্রায় ৫০ শতাংশ হয় ঈদুল আযহায়। এই পশুর বর্জ্য-রক্ত, নাড়িভূড়ি, গোবর, হাড়, খুর ও শিং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনার অভাবে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করা গেলে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা যেতো, অন্যদিকে জবাইকৃত পশুর উচ্ছিষ্ট থেকে আয় করা সম্ভব হবে।
 
প্রতি বছর ঈদুল আযহার সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষকে বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। গত দুই বছর ধরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কোরবানির পশু জবাইয়ের কিছু স্থান নির্দিষ্ট করে দিলেও নগরবাসীর মধ্যে সেখানে না গিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় পশু জবাইয়ের প্রবণতা রয়ে গেছে। গত ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে কোরবানির পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে ছড়িয়ে গিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রক্তের নদীর মত আকার ধারণ করে। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
 
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, মক্কার আদলে আমাদের কোরবানি ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পবিত্র মক্কায় কোরবানি ও পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনশক্তি দ্বারা পরিপূর্ণ ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানি করা হয়। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায় না, নষ্ট হয় না পশুর চামড়া। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার এভাবে নিশ্চিত করা যায়।
 
সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেলিন চৌধুরী বলেন, কোরবানির পর পানিবাহিত রোগ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ যেখানে সেখানে পশু কোরবানি। যারা নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিবে না তাদেরকে জরিমানা করা উচিত।
 
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান। সভায় পশু স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানি ও কোরবানির ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়।