বিতর্ক দেখে ভোটের সিদ্ধান্ত নেবেন ৫০ ভাগ মার্কিনি

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:২৬
আগামী আট নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তায় কাছাকাছি চলে এসেছেন দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্র্যাট নেত্রী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ভোটারই কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত নেননি। নির্বাচনের আগে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনুষ্ঠিতব্য তিনটি বিতর্ক এ সব ভোটারকে প্রার্থী বেছে নিতে সহায়তা করবে বলে এক জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ দিকে বিতর্কের আগে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা। রবিবার তারা ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, দলের ঐক্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই তাদের এই সমর্থন। আর বিতর্ক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত অতিথি হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাবেক প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত জেনিফার ফ্লাওয়ারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলন। কিন্তু জেনিফার উপস্থিত থাকবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স।
 
বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রথম মুখোমুখি বিতর্ক। নিউ ইয়র্কের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। বিতর্কে দেড় ঘণ্টার জন্য মুখোমুখি লড়াইয়ে অংশ নেবেন হিলারি ও ট্রাম্প।
 
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, নির্বাচনপূর্ব তিনটি বিতর্ক প্রার্থীদের প্রচারণার বড় প্লাটফর্ম। এ সব বিতর্কে প্রার্থীদের উপস্থাপনা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বড় ভূমিকা রাখে। সুতরাং দোদুল্যমান ভোটারদের কাছে টানার জন্য বিতর্কে নিজেদের সেরা উপস্থাপনা তুলে ধরাটা হতে পারে হিলারি ও ট্রাম্পের জন্য বিরাট সুযোগ। সোমবার রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপের ফলে বলা হয়েছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন ভোটার প্রার্থী পছন্দ করতে বিতর্কের উপর নির্ভর করছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম বিতর্ক সরাসরি টিভিতে দেখবে ১০ কোটিরও বেশি মার্কিনি। প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটার মনে করছে এই বিতর্ক তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সহায়তা করবে। এদের মধ্যে ১০ শতাংশ বলছে তারা এখনই কোনো প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন না। আর বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে ৩৯ শতাংশ ভোটার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, বেছে নিয়েছেন পছন্দের প্রার্থীকে। তারা বলছেন বিতর্ক তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে ১১ শতাংশ ভোটার বুঝতে পারছে না এ সব বিতর্ক তাদের সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। বেশির ভাগ দর্শক মনে করছে এই বিতর্কের বেশ কিছু ইস্যুতে প্রার্থীদের অবস্থান ও ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যাবে। এ সব বিতর্কে প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে সভ্য আচরণ করবে বলে আশা করছেন বেশিরভাগ ভোটার।
 
বিতর্কের আগে ট্রাম্পকে সমর্থন বুশ প্রশাসনের ৫০ কর্মকর্তার
 
এ দিকে প্রথম বিতর্কের আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের ৫০ কর্মকর্তা ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক কর্মকর্তারা এই তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায়    আছেন হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি আরি ফ্লিশার, সাবেক এটর্নি জেনারেল জন অ্যাশক্রফট, সাবেক শ্রম মন্ত্রী এলাইন চাও। এ ছাড়া নাম আছে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডেরও। যদিও বুশের পরিবার ও তার পরিচিত অনেকেই এখন ট্রাম্পের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ইতোমধ্যে বুশের ভাই জেব বুশ জানিয়েছেন নির্বাচনে তিনি কাউকেই ভোট দেবেন না।
 
বিল ক্লিনটনের সাবেক প্রেমিকা থাকছেন না বিতর্ক অনুষ্ঠানে
 
প্রথম বিতর্কের আগেই উত্তাপ ছড়িয়ে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিলারিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে বিতর্ক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত অতিথি হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাবেক প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত জেনিফার ফ্লাওয়ারকে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেনিফার শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন না। ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স গতকাল এ খবর নিশ্চিত করেন। পেন্স ফক্স নিউজকে বলেন, জেনিফার সোমবারের বিতর্কে থাকবেন না।
 

ইত্তেফাক/এএন