চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্যভর্তি এফসিএল (ফুল কন্টেইনার লোডেড) কন্টেইনার পরিবহনকারী প্রাইমমুভার ও ট্রেইলার ধর্মঘট গতকাল সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে আমদানিকারক ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের কাঁচামাল সরবরাহে জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রাইমমুভার ট্রেইলর মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, প্রায় এক মাসের ব্যবধানে অনিবার্য কারণে তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪০ ফুট এফসিএল কন্টেইনার বহনকারী দেশের প্রায় ১১ হাজার প্রাইমমুভার ও ট্রেইলর গতকাল সোমবার থেকে চলাচল করেনি। তিনি জানান, গত ২১ আগস্ট তারা ধর্মঘট শুরু করলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ধর্মঘটকারী সংগঠনসহ ৫টি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। এতে মেয়র সবগুলো দাবি মেনে নেন। তার মধ্যে এফসিএল কন্টেইনার’র ওজন ৩৩ টন পর্যন্ত বহনে বাধ্যবাধকতা তুলে ধরলে ধর্মঘটকারীরা তা মেনে নেন।
সদস্য সচিব আরো জানান, এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও এক শ্রেণির আমদানিকারক কন্টেইনারে ৩৩ টনের বেশি ওজনের এফসিএল কন্টেইনার বহন অব্যাহত রাখলে দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুর আগে ওজন স্কেলে সরকারি সংস্থার লোকজন তাদের যানবাহন চলাচলে বাধা প্রদান করে। তিনি বলেন, ৩৩ টন পর্যন্ত পণ্যের ওজন এফসিএল কন্টেইনারে বজায় রাখার বিষয়টি ওই বৈঠকের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়নি বলে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যদি ধর্মঘট নিরসনে বৈঠক ডাকা হয় তাহলে ধর্মঘটকারীরা সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের ছাড়া এ বৈঠকে বসবেন না। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে মেয়র সেতু মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ করলেও মন্ত্রণালয় তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। ফলে সমস্যা সমাধানের আপাততঃ কোন পথ দেখা যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/এএন
