রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত জুন মাস থেকে চিকিত্সক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অবহেলা আর নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল বর্তমানে চলছে তিনজন চিকিত্সক দিয়ে।
এখানে জরুরি বিভাগে একজন, গাইনী বিভাগে একজন ও ওয়ার্ড-কেবিনে একজন কর্মরতসহ মাত্র তিনজন চিকিত্সক রয়েছে। তবে ওয়ার্ড ও কেবিনের কর্মকর্তা ডাক্তার সকাল ১১টার পর বহির্বিভাগে এসে এক ঘণ্টা সময় কিছু রোগীর চিকিত্সা দিলেও প্রতিদিন বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ডাক্তার না পেয়ে সেবা ছাড়াই ফেরত যাচ্ছেন শত শত রোগী। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৪শ’ রোগী চিকিত্সা নিতে আসে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবলের অভাবে অস্ত্রোপচারও হচ্ছে না দীর্ঘ বছর ধরে। হজের ছুটিতে এক মাস ধরে টিএসও রয়েছেন বিদেশে।
চিকিত্সা নিতে আসা উপজেলার চরমহনা এলাকার রহিমা বেগমসহ কয়েকজন রোগী জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এসে সাড়ে ৮টায় টিকিট নিয়ে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে এক সময় মেঝেতে বসে পড়েন তারা। তাদের মতে- কমপক্ষে ৬০-৭০ জন রোগী টিকিট নিয়ে চিকিত্সা নেওয়ার জন্য সকাল ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ডাক্তার না পেয়ে সেবা ছাড়াই চলে যাচ্ছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ বলেন, হজের ছুটিতে টিএস বিদেশে রয়েছেন। তিনজন চিকিত্সক দিয়ে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল সামলানো খুই কঠিন। চিকিত্সক নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই তিনি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।
রায়পুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান বলেন, চিকিত্সক সংকটে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কয়েকজন চিকিত্সক পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
ইত্তেফাক/এএন
