সাপের খেলা দেখিয়ে জীবীকা নির্বাহ করেন ভুরুঙ্গামারীর সাপুড়ে রিয়াজ আহাম্মেদ। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে সে। তিন কন্যা সন্তানের পিতা রিয়াজ। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছোট দুই মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাপের খেলা দেখিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসার চলে তার।
অন্য সাপুরের চেয়ে রিয়াজ আহাম্মেদের সাপ নিয়ে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে বেড়ানোর ধরণ একটু ভিন্ন। নিজের মোটরসাইকেলযোগে ঘুরে তিনি সাপ খেলা দেখান। খেলা দেখিয়ে মানুষের মনে আনন্দ জোগানোর পাশাপাশি সাপ নিয়ে মানুষের কৌতুহলও মেটান তিনি।
গত শনিবার দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে রিয়াজ আহাম্মেদের সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, টাকার অভাবে পড়াশুনা করাতে পারেননি। অনেক কষ্ট করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ইচ্ছা ছিল পড়াশুনা করে ভাল একটা চাকরি করে সম্মানজনক কোনও পেশায় জীবীকা নির্বাহ করবেন।
আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে প্রায় ভোটার শূণ্য ছিল কেন্দ্রগুলো
রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘আমি কোনো জাত সাপুড়ে নই। সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখানো, সাপের কামড়ের রোগীর চিকিৎসা, মানুষের কোমরে ব্যাথাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমার স্ত্রী আসমা বেগমও সাপে কাঁটা রোগীদের চিকিৎসা দেন। দ্রুত এ সব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য পাঁচ বছর আগে মোটরসাইকেল কিনেছি। তাই মোটরসাইকেলযোগে কুড়িগ্রাম জেলার সব উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের রোগীদের চিকিৎসা সেবা করতে পারি। এসব করেই গড়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা উপার্জন হয়, তাই দিয়ে সংসার চলে।’
ইত্তেফাক/নূহু
