শরণখোলায় বগী গ্রামে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন দিন ধরে পাঁচ শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ। শুক্রবার রাতে পূর্ণিমার ভরা জোয়ারের প্রবল স্রোতে বলেশ্বর নদীর প্রায় ১০০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বর্তমানে ওই এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।
ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ ভেঙে নদীর জোয়ারের পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে ঢুকে পুরো গ্রাম পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বসতঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম ও রান্নাবান্না করতে পারছে না। গবাদিপশু নিয়েও তারা পড়েছে বিপাকে।
বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, মানুষ জোয়ারের পানিতে ভাসছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়ি-ঘরে পানি ওঠায় শতাধিক পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় লোকালয় পানিতে ডুবে এবং ভাটার সময় পানি থাকে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙনপ্রবণ বগী এলাকায় বেড়িবাঁধের কাজ না করে কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করছে। ফলে বগী এলাকার হাজার হাজার মানুষ সহায় সম্পদ নিয়ে দিন দিন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বগী গ্রামের রতন হাওলাদার, এমদাদুল হক, মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম হাওলাদার, শায়সের আলী, আ. জলিল হাওলাদার, সুফিয়া বেগমসহ দুর্ভোগের শিকার বগী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, হঠাত্ শুক্রবার রাত ১২টায় তারা ঘরের মধ্যে পানি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সারা রাত ঘুমাতে পারেননি তারা। গবাদিপশুগুলো আশপাশের উঁচু জায়গায় নিয়ে রেখেছেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বগী এলাকা বারবার ভাঙছে। কিন্তু ঠিকাদারদের সেদিকে কোনো গুরুত্ব নেই। এর আগেও বেশ কয়েকবার এখানকার বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা নামমাত্র রিংবাঁধ দিয়েই তাদের দায় সারেন। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণের আগে এখানে নদী শাসন করা দরকার। ভাঙন রোধ হলে পরবর্তীতে বাঁধ তৈরি করলে সেটি টেকসই হবে। অন্যথায়, বাঁধ নির্মাণ করলে তা কোনো কাজে আসবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিইআইপি প্রকল্পের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, শিগগিরই ওই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এখানে রিংবাঁধ দিলে তা কোনো কাজে আসবে না। এছাড়া প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
