ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ
বিশেষ প্রতিনিধি
ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র-গুলি নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের অভিযোগে গত ১৪ দিনে গ্রেফতার হয়েছেন তিন আওয়ামী লীগ নেতা। প্রথম দফায় গত ১১ মার্চ গ্রেফতার হয়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ হোসেন। এরপর ২২ মার্চ গ্রেফতার হন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান। সর্বশেষ গতকাল রবিবার গ্রেফতার হয়েছেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহারুল আনাম। এদের মধ্যে জামিন পেয়েছেন মেহেদী মাসুদ হোসেন। অপর দু’জন রয়েছেন কারাগারে।
বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই আজম মিয়া বলেন, আটককৃতদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কারণ, তারা তো বৈধ অস্ত্রধারী। তবে ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র বহনের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যান্টেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বিমানবন্দরে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করার আগে ঘোষণা দিতে হবে। এরপর অস্ত্রবহনের ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ড রেজ্যুলেশন আছে সে মোতাবেকই অস্ত্রটা যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তদন্ত করে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সর্বশেষ গ্রেফতার এ বি
এম মাজহারুল আনাম
ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করায় দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মাজহারুল আনামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে ৩৪ রাউন্ড রাইফেল ও ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি পাওয়া যায়। গতকাল রবিবার সকাল সোয়া ১০টার একটি ফ্লাইটে তার কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল।
বিমানবন্দর অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি অপারেশনের পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় মাজহারুল আনামের কাছে গুলি থাকার বিষয়টি তিনি ঘোষণা করেননি। স্ক্যানিংয়ের সময় তার হ্যান্ডব্যাগে গুলিগুলো ধরা পড়ে। প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এভিয়েশন সিকিউরিটির অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরে বিমানবন্দর পুলিশ স্টেশনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পলাশ নামে এক যুবক নিহত হন। গত ৫ মার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের তল্লাশিতে শনাক্ত হয়নি। পরে তিনি আগ্নেয়াস্ত্রটি জমা দিলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইস্যুটি সমালোচনার মুখে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভুলক্রমেও বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ কেউ প্রবেশ করলে ছাড় পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ভুলক্রমেও বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ কেউ প্রবেশ করলে ছাড় পাবে না। ভবিষ্যতে বিমান ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
