বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো। স্প্যানিশ এই চিত্রশিল্পী একাধারে ভাস্কর, প্রিন্টমেকার, মৃিশল্পী, মঞ্চ নকশাকারী, কবি এবং নাট্যকার। এককথায় বহুমুখী প্রতিভার দারুণ সমন্বয় ঘটেছিল পাবলো পিকাসোর চরিত্রে। বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে সবাই তাকে চেনে। কিউবিস্ট আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও এই চিত্রশিল্পী। গঠনকৃত ভাস্কর্যের উদ্ভাবন, কোলাজের সহ-উদ্ভাবন এবং চিত্রশৈলীর বিস্তৃত ভিন্নতার কারণে তিনি অধিক পরিচিতি লাভ করেন। তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে প্রোটো-কিউবিস্ট লেস ডেমোইসেরেস ডি’আভিগনন (১৯০৭) এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে আঁকা গের্নিকা (১৯৩৭)। তবে নানা সময়ে তার অনেক বিখ্যাত চিত্রকর্ম চুরির ঘটনা বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। ২০১২ সালে এক প্রদর্শনী থেকে এমনই একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম চুরি হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের রোটারডাম কুনসথাল যাদুঘর থেকে। ৯ লাখ ডলার মূল্যের ‘পিকাসোর হারকুইলান হেড’ শিরোনামের সেই চিত্রকর্মটি চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল একদল দুর্ধর্ষ চোর। ছবিটি নিয়ে শিল্পপ্রেমীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। অবশেষে কিছুদিন আগে গুজব ওঠে যে, পিকাসোর সেই বিখ্যাত শিল্পকর্মটি উদ্ধার হয়েছে! কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেটি পিকাসোর হারকুইলান হেড’র একটি জাল চিত্রকর্ম।
পিকাসোর চুরি হওয়া ছবিটি খুঁজে পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন হারানো সেই চিত্রকর্মটি আবারও দর্শকদের মনের খোরাক যোগাবে। কিন্তু বিশ্লেষণে ধরা পড়ে এটি আসলে ধাপ্পাবাজির ঘটনা। রোমানিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই জন ব্যক্তি এটি নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসে হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু একজন সাহিত্যিক দাবি করেন, তিনি এই এই চিত্রকর্মটি একটি গাছের নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন। তবে কীভাবে সেটির কথা তিনি জানলেন যে, ছবিটি গাছের নিচে রয়েছে সেটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা পিকাসোর চুরি হয়ে যাওয়া ছবিটি উদ্ধারের গুজব ছড়িয়েছিল তারা মূলত সস্তা জনপ্রিয়তা লাভ করতে চেয়েছিল। পিকাসোর সেই ছবি নিয়ে এই ধরনের গুজব কী করে চারিদিকে ছড়ানো হয়েছে সেসব বিষয়ে তদন্ত শুরু করছে রোমানিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থা।
মিরা ফেতিচু নামের ঐ সাহিত্যিক এর আগে ২০১২ সালে পিকাসোর চিত্রকর্ম চুরির ঘটনার ওপর একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। নেদারল্যান্ডসের গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, বেনামী একটি চিঠির সূত্র ধরে তিনি দক্ষিণ রোমানিয়ার এক জঙ্গলের গাছের নিচ থেকে ছবিটি উদ্ধার করেন। তবে এই ঘটনাকে পুরোপুরি ধাপ্পাবাজি বলে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি। সস্তা প্রচারণা লাভের জন্যই তিনি করেছেন বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি। -সিএনএন
