কুষ্টিয়ায় স্বামীর বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নাইমা সুলতানা ওরফে শাপলা (৩২) নামে এক গৃহবধূ ২৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ শাপলার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের পর থেকে শাপলার বাবার বাড়ির লোকজন চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটালেও স্বামীর বাড়ির লোকজন ভাবলেশহীন।
শুধু তাই নয় স্বামীর বাড়ির লোকজনের অসংলগ্ন কথাবার্তায় শাপলা প্রকৃতই নিখোঁজ না গুম হয়েছেন তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে মেয়ের বাবা ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানার হরিসংকরপুর গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে মুক্তার হোসেনের সঙ্গে জেলার মিরপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড দারুস সালাম পাড়ার আবুল কালাম আজাদ মো. ফরহাদ ওরফে বাবুল মালিথার মেয়ে নাইমা সুলতানা শাপলা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী মুক্তার হোসেন ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন শাপলাকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। এ নিয়ে প্রায়ই শাপলাকে তার স্বামী অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করত এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ঈদুল আযহার আগে বাবার বাড়ি থেকে শাপলাকে ১০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিলেও বাবার আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকায় তিনি ওই অর্থ দিতে অপারগ হন।
নিখোঁজের বিষয়টি স্বামীর ভাড়া করা বাসার মালিক মোবাইলে শাপলার বাবাকে জানালেও স্বামীর বাড়ির লোকজন রহস্যজনকভাবে তা গোপন রাখে। মেয়ের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে শাপলার বাবা সেখানে গেলে বাসার মালিক জানায়, ৭ সেপ্টেম্বর শাপলা তার মামা বাড়ি গাংনী থেকে ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছে, শাপলা গাংনীতে মামার বাড়িতে গিয়ে আর ফেরেননি। তারপর থেকেই শাপলা নিখোঁজ না গুম তা নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন দেখা দেখা দিয়েছে। গৃহবধূ শাপলার ভাগ্যে আসলেই কি ঘটেছে তা এখন নির্ভর করছে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তের উপর।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
