সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৬, ২৩:৫৪
ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের যুক্ত করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সামাজিক পরিবর্তন আনতে এই তরুণরাই অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মূল শক্তি হলো তার বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত মহাত্মা গান্ধীর ১৪৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘সমাজ পরিবর্তনে যুব সমাজের ভূমিকা ও গান্ধী দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
 
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সভাপতি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, ইউএনডিপি বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ ও গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা ধারা চৌধুরী অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। 
 
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, একটি জাতির এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম উপাদান হচ্ছে তার মানবসম্পদ। দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সফলতার জাদুর কাঠি হচ্ছে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের যথাযথ পরিকল্পনার ফলে দেশে শতকরা ৯৮ ভাগ ছেলে-মেয়ে এখন স্কুলমুখী হয়েছে। শতকরা ১০ ভাগ তরুণ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, গান্ধী ছিলেন একজন মহান দার্শনিক। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রেণির মানুষদের সাথে নিয়ে অহিংস সংগ্রাম করেছেন। তিনি প্রায় শত বছর আগে উপলব্ধি করেছিলেন, মানব সম্পদ উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।
 
ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা তার বক্তৃতায় বলেন, মহাত্মা গান্ধী শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেননি বরং সামাজিক পরিবর্তন ও সমাজের উন্নয়নে সারাজীবন কাজ করেছেন। তার দর্শন এবং কর্ম এখনো আমাদের অনুপ্রাণীত করে। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের যুক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মূল শক্তি হলো এর তরুণ জনগোষ্ঠী। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন