পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বঙ্গোপসাগরে যেখানে নদীগুলো মিশেছে সেখানে বাংলাদেশের সমান কিংবা তার চেয়েও বড় আরেকটি নতুন ভূখণ্ড সৃষ্টি হচ্ছে। বড় বড় চর জেগেছে। এই নতুন ভূখণ্ডকে উদ্ধারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের জমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তারা সমুদ্রে মাটি-পাথর ফেলে স্থাপনা তৈরি করে ভূমি বাড়িয়েছে। আর আমাদের একটি বড় ভূখণ্ড তৈরিই রয়েছে। এটি উদ্ধারে কাজ করা দরকার।
গতকাল শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাতীয় পরিবেশ অলিম্পিয়াডের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পৃথিবীর সম্পদ ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশ এখন এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এ পৃথিবীতে সব ধরনের জীব সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এখন পরিবেশ রক্ষায় গোটা পৃথিবী একত্রিত হয়েছে। প্যারিস সম্মেলন হয়েছে, মরক্কোতে কিছুদিন পর কপ’২২ সম্মেলন হবে। পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বনেতারা একত্রিত হবেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের যেকোনো বিষয়েই পরিবেশের কথাটি মনে রাখতে হয়। তা না হলে আমরা পিছিয়ে যাব। এই পৃথিবীকে, বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করতে সামান্যতম হলেও আমরা অবদান রেখে যাচ্ছি।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, কম দক্ষ বা অধিক জ্বালানি খরচকারী ও বায়ু দূষণকারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমাবদ্ধ বা শূন্যের কোটায় আনা না গেলে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য গবেষণায় জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে যত কাগজপত্র (গবেষণাপত্র) রয়েছে, এগুলোর সব বিদেশিদের তৈরি করা। দেশের লোকজন এগুলো তৈরি করে না? তাই এটি নিয়ে আমাদের কেউ অনতিবিলম্বে কাগজপত্র তৈরি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব। আমরাও কাগজের পিঠে কাগজ রাখার চেষ্টা করি।
মুক্তিযুদ্ধের ও নিজে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তোমাদের জন্য একটি দেশ সৃষ্টি করে দিয়েছি। তোমরা সেই দেশের গর্বিত নাগরিক। আমাদের কাজ যেখানে শেষ সেখান থেকে তোমরা দেশকে আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক এবং পরিবেশ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ বলেন, এ পৃথিবীতে সব প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই মানুষকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। দেশে যে পশু পাচার ও বন্যপ্রাণী পিটিয়ে মারার সংস্কৃতি রয়েছে তা দূর করতে হবে।
ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশ কম কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করেও জলবায়ু দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। অগ্রসরমান এ দেশকে পরিবেশ রক্ষায় অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে হবে। এককভাবে কোনো রাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে না।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক কে বি সাজ্জাদুর রশিদ বলেন, পরিবেশ ও উন্নয়ন পরস্পর প্রতিপক্ষ নয়, বরং সম্পূরক। পরিবেশ সংরক্ষণ করা না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। আবার উন্নয়ন না হলে পরিবেশ বিপন্ন হবে। দারিদ্র্য হলো এ দুটির শত্রু। তাই দারিদ্র্য দূর করতে কাজ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছ উল আলম মণ্ডল, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাজমুন নাহার।
ইত্তেফাক/এএন
