কালাইয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের কাজ গত ৭ বছর আগে সমাপ্ত হলেও এখনো উদ্বোধন করা হয়নি। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। নীতিমালা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণসহ দরপত্রের মাধ্যমে পঁচানব্বই ভাগ নির্মাণ কাজ সম্পন্নের পর হঠাত্ করে ২০১০ সালে জমির মালিকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সেই সময় ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেয়। স্থগিতাদেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে জমির মালিক ওই মামলা আদালত থেকে প্রত্যাহার করার পর আজও আলোর মুখ দেখেনি ফায়ার সার্ভিসের ওই ভবনটি। উদ্বোধনের অপেক্ষায় অতিবাহিত করেছে বিগত ৭ বছর।
রিট আবেদনকারী মোজাফ্ফর হোসেন বলেন,‘জায়গাটি তার শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নামে দেওয়ার আগে তাকে দান করেছেন। ফলে ওই জায়গায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে এলাকার স্বার্থে এবং অনেকের পরামর্শ অনুযায়ী আদালত থেকে ওই মামলা প্রত্যাহারও করেছেন তিনি। এর আগে ওই জায়গা নিয়ে শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম মূল্য বেশি চেয়ে জেলা জজ আদালতে যে মামলা করেছিলেন সে মামলাও অনেক আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন তো আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
ঠিকাদার আখতারুজ্জামান বলেন,‘সরবরাহকৃত স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে দরপত্রের চেয়ে অধিক পরিমাণ কাজ করা হয়েছে। এতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। যা সাত বছরেও আমি পাইনি। এ ছাড়া কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য নির্মাণাধীন ফায়ার স্টেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বার বার আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কাজ বুঝে না নেওয়ার কারণে ওই ভবন পাহারা দিতে অতিরিক্ত ব্যয়ও হচ্ছে আমার।
জয়পুরহাট গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহার করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তারপর ৩ মাসের স্থগিতাদেশের বিষয়ে আইনি বাধা পরিষ্কারভাবে জানতে না পেরে ভবনটি বুঝে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
ইত্তেফাক/এএন
