প্রতিশোধ নিতে আইএস জঙ্গিদের ছিন্ন মস্তক রান্না করেন ইরাকি নারী

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:০১
স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের হত্যা করে তাদের ছিন্ন মস্তক রান্না করার দাবি করেছেন একজন ইরাকি নারী। আইএস বিরোধী আধা সামরিক দলের প্রধান ওই নারীর নাম ওয়াহিদা মোহাম্মদ আল জুমেইলি।
 
 ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীর দ্বিতীয় স্বামীর জীবন গেছে আইএসের হাতে। এছাড়া তার বাবা ও তিন ভাইকে হত্যা করেছে নৃশংস এই জঙ্গিগোষ্ঠী। পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আধা সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন ওয়াহিদা। ৭০ জনের দলের নেতৃত্বে থাকা ওয়াহিদার দলকে গাড়ি ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে ইরাকি সেনাবাহিনী। উম হানাদি নামে পরিচিত এই নারীর দলের যোদ্ধারা সম্প্রতি ইরাকের শিরকাত শহর মুক্ত করার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল।
 
সেই লড়াইয়ের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ওয়াহিদা বলেন, আমি তাদের সঙ্গে লড়াই করেছি, তাদের মস্তক ছিন্ন করেছি, তাদের মাথা রান্না করেছি এবং দেহ পুড়িয়ে দিয়েছি। নিজেকে গৃহিণী হিসেবে আখ্যায়িত করা ওয়াহিদা ফেসবুকে একটি ছিন্ন মস্তক সহ দাড়িয়ে থাকার ছবি পোস্ট করেছিলেন। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, রান্না করার পাত্রে দুটি ছিন্ন মস্তক এবং তৃতীয় ছবিতে দেখা যায় তিনি মাথা বিহীন দেহ পোড়াচ্ছেন।
 
ওয়াহিদা আইএসের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় শীর্ষে আছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ওয়াহিদা বলেন, আমি আইএসের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আছি, এমনকি আবু বকর আল বাগদাদিও (আইএস প্রধান) আমাকে হুমকি দিয়েছে। ছয়বার তারা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আমার মাথায় ও পায়ে বোমার স্প্লিন্টার আছে, পাজরের হাড় ভাঙ্গা; কিন্তু তাতে আমি লড়াই বন্ধ করিনি।
 
উল্লেখ্য, আইএস যোদ্ধারা নারীর হাতে নিহত হওয়াকে ভয় করে। এক কুর্দি নারী সেনার মতে, আইএস যোদ্ধারা বিশ্বাস করে নারী সেনার হাতে নিহত হলে তারা বেহেশতে যেতে পারবে না। 
 
২০০৪ সালে প্রথমে ইরাকি সেনাবাহিনী ও মার্কিন জোটের সহযোগে আল কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন ওয়াহিদা। বর্তমানে তার যুদ্ধ আইএসের বিরুদ্ধে। ইরাকি সেনাবাহিনীর সালাউদ্দিন প্রদেশের কমান্ডার জেনারেল জামা আনাদ বলেছেন, ওয়াহিদার মিলিশিয়াদের যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ