নগর সংস্কৃতি

কবিতায় কবিতায় সৈয়দ হককে অনুভব

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ০০:৩০
কবিতার উচ্চারণে সবাই সৈয়দ শামসুল হককে অনুভব করছিলেন। সৈয়দ হকের কবিতায় মগ্ন আবৃত্তিকার, শ্রোতা সবার মাঝেই ‘সব্যসাচী’ যেন ফিরে ফিরে আসছিলেন। সশরীরে তিনি নেই এ কথা যেমন সত্য, তেমনি তিনি কখনোই হারিয়ে যাবেন না—এটাও যে মিথ্যে নয়, তা কবিতার উচ্চারণে সংস্কৃতিকর্মীরা অনুভব করাতে চাইছিলেন দর্শক-শ্রোতাদের।
 
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে শুরু হয়েছে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী সৈয়দ শামসুল হক স্মরণানুষ্ঠান। আসাদুজ্জামান নূরের কণ্ঠে ‘নূরলদীনের সারাজীবনের’ ভূমিকাপর্ব পাঠ আন্দোলিত করছিল তাদের। হাসান আরিফের কণ্ঠে ‘পরানের গহীন ভেতর’ আবেগতাড়িত করছিল দর্শক-শ্রোতাকে।
 
এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কামউল্লাহ।
 
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘অসম্ভব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটিয়েছি হক ভাইয়ের সঙ্গে। সে সব মুহূর্ত মনে পড়লে আবেগ সংবরণ করাটা কঠিন। তার নাটক যখন করেছি, কবিতা যখন পাঠ করেছি; তখন তিনি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে অর্থে তিনি ছিলেন আমাদের শিক্ষক, গুরু।’
 
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘কবিতা, গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি তার কাব্যনাটক এ দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। যেসব নাটকে তিনি নিজেদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।’
 
হাসান আরিফ বলেন, ‘মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েও তিনি কখনও হার মানেননি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর ৭৫ বছর পরেও আমরা যেভাবে তাকে স্মরণ করি, সৈয়দ হককেও তার সৃজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করতে হবে।’
 
পরে মুহাম্মদ সামাদ পাঠ করেন স্বরচিত কবিতা ‘তোমার প্রেমের আলো’। কবির নাটক ‘নূরলদীনের সারা জীবন’-এর অংশবিশেষ পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে ২০ জন আবৃত্তিকারের পরিবেশনায় সৈয়দ হকের কবিতা। কবির ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যের পরিবেশনায় অংশ নেয় কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৫টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।
 
সপ্তাহব্যাপী স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব শুরু
 
একসঙ্গে ৬৪ জেলায় শুরু হলো স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব। রাজধানী ও দেশের বাকি ৬৩টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চলবে সপ্তাহব্যাপী এ উন্মুক্ত উত্সব। মানসম্পন্ন  চলচ্চিত্রের সঙ্গে সর্বসাধারণের পরিচয় ঘটানোই বিশাল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আগামী  ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান উত্সবে প্রদর্শিত হবে ৮৪টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৭১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নির্মিত ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত উত্সবে সহযোগিতা করছে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম ও বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদ।
 
গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় মিলনায়তনে উত্সব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন তিন চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকি, মোরশেদুল ইসলাম ও মানজারে হাসীন মুরাদ। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
 
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেখানো হয় জহির রায়হান নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’, মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘আগামী’, তারেক মাসুদের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘আদম সুরত’, আমিনুর রহমানের মুকুলের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘অবরোধ’, রহমান লেনিনের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘মন ফড়িং’ ও ইয়াসমিন কবির নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘পরবাসী মন আমার’।
 
নাট্যপুরাণ সম্মাননা পেলেন সাত নাট্যজন : নাট্যসংগঠন নাট্যপুরাণের পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সম্মাননা জানানো হয়েছে সাত গুণী নাট্যজনকে। এরা হলেন—শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ঝুনা চৌধুরী, আক্তারুজ্জামান, আহম্মেদ গিয়াস, হাফিজুর রহমান সুরুজ ও প্রবীর দত্ত। গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় স্টুডিও থিয়েটার হলে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নাট্যজন আতাউর রহমান এবং দলের প্রধান সম্পাদক তুষার রায়। সম্মাননা পর্ব শেষে মঞ্চস্থ হয় নাট্যপুরাণের ‘অমাবস্যা’। যার রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন প্রবীর দত্ত।
 
 

ইত্তেফাক/এএন