ধান ক্ষেতের পোকা নিধনে জনপ্রিয় হচ্ছে আলোক ফাঁদ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৬, ১২:২৯
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষকদের কাছে ধানের পোকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম হচ্ছে আলোক ফাঁদ। বর্তমানে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমন ফসলের ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি বর্তমানে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, আমন ধান ক্ষেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপড় আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরা হচ্ছে। কৃষকরা নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর পরিমাণ দেখে ক্ষেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোন ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে তা খুব সহজেই নিরূপন করতে পারছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা নিজেই তাদের আমন ক্ষেতে কোনো ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে তা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রয়োগ করতে পারছেন। এতে করে পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন উপজেলার কৃষকরা। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা। 
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার চার শ ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণায় কৃষকরা বর্তমানে এই আলোক ফাঁদ পদ্ধতির প্রতি উৎসাহিত হয়েছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই আমন ধানের শত্রু বিভিন্ন পোকা নিধন করতে পারছেন।
 
উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক লোকমান, জিসারুল ও সিরাজ এবং কাশিমপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, সালাস, আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছি। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ক্ষেতের পোকা-মাকড়গুলো নিধন করা যাচ্ছে।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম গোলাম সারওয়ার জানান, এটা পরিবেশ বান্ধব ও সহজলভ্য পদ্ধতি।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ