ভারত আমাদের পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অনেক অবদান রয়েছে। আমরা তা কোনোদিন ভুলব না। তাই ভারত যদি কারো দ্বারা আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের পাশেই থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সচিবালয়ে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সীমানা নেই। পাকিস্তানকে আমরা ’৭১ সালে পরাজিত করে তাড়িয়ে দিয়েছি। তাই তাদেরকে নিয়ে আমরা ভাবতে চাই না। তাদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথাও নেই। দেশটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছে। দেশটির এই আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা এর প্রতিবাদও জানিয়েছি। এ কারণে আমরা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেইনি।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গেই কাজ করছে। জুলাই মাসে ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে তিনি কথা দেন জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি এও জানিয়ে দেন যে, ‘তুমি তোমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একা নয়, ভারত সবসময় সঙ্গে আছে।’
ভারত থেকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত আসামিদের ফেরত আনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি আছে আমাদের। চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করছে। যখনই প্রয়োজন তখনই সংশ্লিষ্টকে উভয়দেশ বিনিময় করতে পারবে।
তাহমিদকে কেন জামিন দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জামিনের বিষয়টি আদালতের। তিনি বলেন, তাহমিদের কাছ থেকে আমাদের গোয়েন্দারা উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পায়নি। তারপরেও যখনই তাকে প্রয়োজন হবে তখনই তাকে পাওয়া যাবে।
যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তো কোনো অপরাধ করেনি। তারা যদি বাংলাদেশের আইন-কানুন মেনে সাধারণ নাগরিকের মতো জীবনযাপন করে সেক্ষেত্রে আমরা তাদের ওপর কেন অবিচার করব। তবে তারা যদি বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন-কানুন ভঙ্গ করে তাদের অভিভাবকদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে। সীমান্তে একটি লোক মারা যাক তা আমরা চাই না।
এসময় সাংবাদিকরা তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন গত কয়েক বছরে সীমান্তে ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলেও ভারতের একজনও মারা যায়নি। ভারতের এ ধরনের আচরণকে সমর্থন করেন কিনা?
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা মারা গেলেও ভারতের একজনও মারা যায়নি সেটাও ঠিক না। তবে আমরা বলতে চাই আমরা সীমান্তে একটি হত্যাকাণ্ডও চাই না। আমরা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড জিরোতে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। এজন্য আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এখন দিল্লিতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে বৈঠক চলছে।
অনুষ্ঠানে বিদেশে কর্মরত এক কোটি ৫১ লাখ প্রবাসীকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রবাসীকে আমরা এমআরপি দিয়েছি। একজন বিদেশিও এমআরপির অভাবে দেশে ফেরত আসেনি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ বহরে হেলিকপ্টার যোগ করে পুলিশের এয়ার উইংয়ের যাত্রা শুরু হবে।
ইত্তেফাক/এএন
