রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আলী হোসেন মালিক (৬৮) খুন হয়েছেন। তাকে ঘরে ঢুকে ছুরিকাঘাতে করে হত্যা করে। ভাসানটেক থানা পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস ২ নম্বর রোডের ৫৩/এ নির্মাণাধীন বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে তার হাত পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।
নির্মানাধীন ওই ভবন দেখা শুনা করতেন আলী হোসেন মালিক। ঘটনার পর ওই ভবনের দুই কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ভায়রা মাহবুবুর রহমান রতন জানান, আলী হোসেন মালিক সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল (জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক) ছিলেন। এর আগে ছিলেন ইডেন কলেজে। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান। এরপর থেকে তিনি ডেভেলপার ব্যবসায়ী বন্ধুর ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। কয়েকদিন আগে তার বন্ধু বিদেশে যাওয়ায় তিনি নির্মাণাধীন ওই বাড়ি দেখাশুনা করতেন। তিনি ওই ভবনের ৪র্থ তলায় তিনি একাই থাকতেন। এছাড়াও ওই নির্মাণাধীন ভবনটিতে একজন কেয়ারটেকার, ড্রাইভার এবং কয়েকজন কর্মচারী থাকতেন।
তিনি আরো জানান, আলী হোসেনের স্ত্রী এবং এক সন্তান মিরপুরের ইনডোর স্টেডিয়ামের পাশের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার একমাত্র সন্তান সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশুনা করছে। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানার রেলপাড়া।
পুলিশের ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে ২-৩টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে পলাতক দুই কর্মচারী ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারাই তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে । তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনই বলা যাচ্ছে না।
ওসি বলেন, ওই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
