পাবনার সাঁথিয়ায় ভুয়া সনদ দেখিয়ে এমপিও, অর্থ আত্মসাৎ ও কলেজে উপস্থিত না থেকে ১৮ বছর যাবৎ সরকারি এবং বেসরকারি অংশের বেতন উত্তোলন করেছেন দুই কলেজ শিক্ষক। এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর।
লিখিত ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিয়াপুর হাজী জসিম উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখার প্রভাষক বজলুর রশিদ ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অধ্যক্ষ বরাবর দরখাস্ত করে অর্থনীতি বিষয়ক প্রভাষক পদে চাকরি নেন। স্বহস্তে লিখিত দরখাস্তে শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি লেখা। ওই দুই ডিগ্রির বিপরীতে প্রদত্ত সনদেও তৃতীয় শ্রেণি রয়েছে। যা সরকারী নিয়ম পরিপন্থী। অথচ অনিয়মের মাধ্যমে ২০০১ সালে প্রভাষক বজলুর রশিদ এমপিও প্রাপ্ত হয়ে যায়।
অভিযোগে রয়েছে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে বজলুর রশিদ এমপিও হয়েছে। ২০০১ সালে এমপিও হলেও ২০০৬ সালে এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পাসের একটি সনদ কলেজে জমা দেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।
এদিকে একই কলেজের অপর প্রভাষক কামরুজ্জামান দীর্ঘ ১৮/১৯ বছর কলেজে না এসেও সরকারি ও বেসরকারি শাখার বেতন উত্তোলন করে যাচ্ছেন। যার শিক্ষক ইনডেক্স নং-৮৩১৯৫৮। অভিযুক্ত কামরুজ্জামান ওই কলেজের পাশাপাশি পাবনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কয়ারে মোটা অংকের বেতনে চাকরি করে আসছেন। কলেজ শাখা শুক্রবার খোলা থাকায় সপ্তাহে ওই এক দিন এসে পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর করে যান। শনিবার কলেজটিতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।
রবিবার কলেজে গিয়ে হাজিরা বহিতে তার স্বাক্ষর থাকলেও প্রভাষক কামরুজ্জামানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কলেজের দপ্তরী জানান, স্বাক্ষর করেই তিনি চলে গেছেন। কলেজের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই জানান, তারা শিক্ষক কামরুজ্জামানকে চেনেন না।
অপর দিকে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না হওয়ায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক কামরুজ্জামানকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। ১০ কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত তা দেননি বলে অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান জানান।
এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা জীবনে দুটিতে তৃতীয় ক্লাস থাকলে কিভাবে এমপিও হয় এবং এমপিওভুক্তি শিক্ষক হয়েও ১৮ বছর উপস্থিত না হয়ে কিভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে আহম্মেদ আলী প্রামাণিক বাদী হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক পাবনা, পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন পাবনা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঁথিয়া বরাবর অভিযোগ করেছেন।
প্রভাষক কামরুজ্জামান জানান, ‘কলেজ ছাড়াও অন্য কোম্পানিতে পার্টটাইম চাকরি করতাম, তবে কলেজে এখন নিয়মিত হয়েছি।’
মিয়াপুর হাজী জসিম উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি এক বছর যাবৎ নিয়োগ পেয়েছি। নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বারবার কামরুজ্জামানকে ক্লাসে ফিরতে অনুরোধ করেছি। তাতে কাজ না হওয়ায় তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্য বিষয়ে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বজলুর রশিদের নিয়োগকালীন ফাইল খুঁজে পাইনি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুর্নীতি কমিশন পাবনার এক কর্মকর্তা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘প্রদত্ত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করার পরে তা ঢাকায় প্রেরণ করা হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত বাচাই বাছাই কমিটি গঠন হয়নি।’
আরও পড়ুনঃ মাগুরায় প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণকারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগ পেয়ে তা তদন্তের জন্য মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
