ধ্বংসের পথে পটুয়াখালীর জমিদারের কাছারি বাড়ি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ০২:৩০
পটুয়াখালী শহরের নতুন বাজার এলাকার জমিদার রাজেশ্বর রায়চৌধুরীর কাছারি বাড়ি ধ্বংসের পথে। দীর্ঘ অরক্ষিত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ইতিহাসের সাক্ষী ওই জমিদারের কাছারি বাড়ির  অবকাঠামো এখন শুধুই শেষ স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক এই ভবনটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলেও পরে তাদের আর কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি।
 
১৮১৭ সালে বরিশালকে পৃথক করে দেওয়ানি শাসন প্রসারের জন্য স্থাপন করা হয় ৪টি মুন্সেফি চৌকি। বাউফল চৌকি স্থানান্তর করা হয় লাউকাঠীতে। ১৮৭১ সালে পটুয়াখালীকে উন্নীত করা হয় মহকুমায়। জমিদার হূদয় শংকরের  পুত্র কালিকা প্রসাদ রায়ের নামানুসারে লাউকাঠীর দক্ষিণ পাড়ের গ্রামের নামকরণ করা হয় কালিকাপুর। এখানে গড়ে ওঠে পটুয়াখালী শহর। বর্তমান ভূমি অফিস (একোয়ার স্টেট নামে পরিচিত) এলাকায় নির্মাণ করা হয় জমিদারের কাছারি বাড়ি।
 
জমিদার রাজেশ্বর রায়চৌধুরী প্রবল প্রতাপের সঙ্গে পটুয়াখালীর শেষ জমিদারি পরিচালনা করেন। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর তারা সম্পত্তি ফেলে রেখে যান ভারতে। তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি গণ্য করা হয় পরিত্যক্ত ও অনাবাসী সম্পত্তি হিসেবে। পরে পাকিস্তান আমলে সেখানে স্থাপিত হয় সদর তহশীল অফিস। বর্তমানে মূল ভবনের পূর্ব পাশে নির্মাণ করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসারের কার্যালয় ভবন। সেখানকার টিনশেড ঘরগুলো ব্যবহূত হচ্ছে ভূমি অফিস ও তহশীল অফিস হিসেবে।
 
বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সেটি ব্যবহূত হয় সদর উপজেলা ভূমি অফিস হিসেবে। দীর্ঘ সংস্কারের অভাবে সর্বশেষ জমিদার রাজেশ্বর রায়চৌধুরীর কাছারি বাড়ি ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে তা ঝুঁঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। জরাজীর্ণ এই ভবনটি ইতোমধ্যে ধসে পড়তে শুরু করেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে জেলার জমিদারি আমলের আড়াই শতাব্দীকালের স্মৃতিচিহ্ন। এলাকাবাসী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিকট জমিদারি আমলের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
 
এদিকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এই কাছারি বাড়িকে ‘পুরাতন রাজবাড়িটি একটি পুরাকীর্তি সম্পদ যা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের’ উল্লেখ করে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে ভবনের সামনে  গাছের সঙ্গে। কিন্তু সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।