'৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর করা হবে'

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ১৭:৪৯
আসছে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোনো মূল্যে রাজধানীর হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভার চামড়া শিল্পনগরিতে স্থানান্তরের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। নির্ধারিত এ সময়সীমার মধ্যে যেসব ট্যানারি মালিক হাজারীবাগ থেকে কারখানা সাভারে স্থানান্তর করতে পারবে না, ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে কারখানায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হবে। 
 
রবিবার সাভার চামড়া শিল্পনগরিতে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। সভায় সিনিয়র শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখারসহ চামড়া শিল্প মালিক, প্রকল্পের চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, বুয়েট ও প্রকল্প সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
 
শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে এর আগেও কয়েকবার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরবরাহকৃত নি¤œমানের সরঞ্জাম ফিরিয়ে দেয়াসহ অভ্যন্তরীণ কারণে নির্মাণ কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখন সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধান করেছে। এরপরও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবার যারা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর করবে না, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে তাদের নামে বরাদ্দকৃত প্ল¬ট বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।
 
বিসিক এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিল্প নগরীতে ১৫৫ টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ১৫৪টি শিল্প ইউনিটের লে-আউট অনুমোদিত হয়েছে। মামলা জনিত কারণে ১টি শিল্প ইউনিটের লে-আউট অনুমোদন করা যায়নি। ৪৭টি ট্যানারি ট্যানিং ড্রাম স্থাপন করলেও  মাত্র ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে বলে জানানো হয়।
 
আমির হোসেন আমু বলেন, হাজারিবাগের ট্যানারি বুড়িগঙ্গা নদীসহ রাজধানীর পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাভারে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরিতে উৎপাদন শুরু হলে চামড়া শিল্পখাতে মূল্য সংযোজন ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব শিল্পের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে উলে¬খ করে তিনি দ্রুত হাজারিবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করে বিশ্বের কাছে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পের নজির স্থাপনের জন্য ট্যানারি মালিকদের প্রতি আহবান জানান। 
 
পরে মন্ত্রী চামড়া শিল্পনগরিতে স্থাপিত কেন্দ্রিয় বর্জ্য শোধনাগার ও পানি শোধনাগার পরিদর্শন করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন প¬টে ট্যানারি কারখানা নির্মাণ কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।
 
ঢাকা মহানগরীর হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ট্যানারীসমূহকে একটি পরিবেশসম্মত স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ধলেশ্বরী নদীর তীরে সাভার ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার কান্দিবৈলারপুর, চরনারায়নপুর ও চন্দ্রনারায়নপুর মৌজা এলাকায় ২০০ একর জমির উপর বিসিক চামড়া শিল্পনগরী বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধণাগার (সিইটিপি) নির্মাণের কাজ ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ আগামী দশ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়।
 
ইত্তেফাক/কেকে/এমএইচ