সাবেক স্বামী ও প্রেমিক মিলে খুন করে রেখাকে

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:১২

পরকীয়ার জের ধরে শাহীনা আক্তার রেখা ও কাউছার আহম্মেদ খান ওরফে সোহাগের সাংসারিক জীবনে দ্বন্দ্ব চলছিল। রেখার সাথে সুমিত ওরফে শুভ নামে এক ছেলের চলছিল পরকীয়া প্রেম। এরই জের ধরে ৮ মাস আগে রেখাকে তালাক দেয় সোহাগ। এক পর্যায়ে সোহাগ জানতে পারে, তালাক পাওয়ার পর প্রেম করে যাচ্ছে রেখা। তবে কেবল শুভ নয়, একই সময়ে আরো বেশ কয়েকজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল রেখা। এই বিষয়টি সোহাগ রেখার প্রেমিক শুভকে জানায়। শুভও এ কথা শুনে বেশ ক্ষিপ্ত হয় রেখার উপর। এরপর সোহাগ ও শুভ রেখাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এক সময় তারা রেখাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শুভ’র মাধ্যমে রূপগঞ্জের ৩০০ ফুট এলাকায় রেখাকে ডেকে আনা হয়। এরপর সাবেক স্বামী সোহাগ ও প্রেমিক শুভ মিলে খুন করে রেখাকে। খুন করে সেখানেই রেখার লাশ ফেলে চলে যায় তারা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ১৫৪ ধারায় হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় কাউসার আহম্মেদ খান ওরফে সোহাগ। অন্য দিকে, শুভকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডিবির পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, আদালতে রেখার সাবেক স্বামী সোহাগ জবানবন্দি দিয়েছে। সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে এবং শুভর সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছে। তবে আমাদের ধারণা এই ঘটনার সাথে আরো অনেকে সম্পৃক্ত রয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে ১০ নম্বর সেক্টরে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে অজ্ঞাত পরিচয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। তদন্তের দায়িত্ব পড়ে ডিবির পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিনের উপর। একপর্যায়ে জানা যায়, লাশটি রাজধানীর বনশ্রী ই ব্লক এলাকার বাসিন্দা এস এম রফিকের মেয়ে শাহীনা আক্তার রেখার। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত রেখার সাবেক স্বামী সোহাগ ও প্রেমিক শুভ দুজনেই টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ইছাইল এলাকার বাসিন্দা।