গৌরীপুরে সরকারি হাটে পাখি বিক্রি, প্রশাসন নিরব

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:০৪
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা মানা হচ্ছে না ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও নেত্রকোরা পূর্বধলা উপজেলায়। এই দুই উপজেলার বিভিন্ন বন-জঙ্গল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে অবাধে ও নির্বিচারে বন্য পাখি শিকার করছে এক শ্রেণীর অর্থলোভী পাখি শিকারি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এসব পাখিদের শিকার করে বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে স্থানীয় বাজারে। গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ বাজারের বড়মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বন্য পাখি বিক্রির এমনই একটি পাখির হাট।
 
প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার এই বাজারে পাখির হাট বসে। অথচ এই হাটটি সরকারি ইজারাকৃত এবং সরকার রাজস্ব আদায় করছে।
 
সরেজমিনে সোমবার বেলা দুইটায় ওই বাজারে দেখা যায়, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করতে এসেছেন পাখি শিকারিরা। এ সকল পাখির মধ্যে ছিল ডাহুক, কালেম, ওয়াডা, ঘুঘু, শালিক, বক, জালালি কবুতর, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া ঘুঘু পাখি ১৪০ টাকা, ওয়াডা পাখি ১২০ টাকা, বিভিন্ন প্রজাতির বক জোড়া ১৬০ টাকা ও কালেম ছোট পাখি ৮০০ শ টাকা, এছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া।
 
শিকারিরা জানায়, দেশি প্রজাতির এসব পাখির প্রচুর ক্রেতা রয়েছে। তাই তারা বাড়তি আয়ের আশায় পাখি শিকার করছেন।
 
গৌরীপুর উপজেলার মনাটি গ্রামের শামীম জানায়, মনাটি বলা বিল থেকে পোষা বক দিয়ে কূপের ফাঁদে ফেলে আটটি বক ধরেছেন। ১৬০ টাকা জোড়া বিক্রি করছেন। পূর্বধলার কাজলা গ্রামের সবির উদ্দিন জানান, ফালজং বিল থেকে সাতটি বক ও ১০টি ওয়াডা পাখি শিকার করে নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। এর মধ্যে চারটি বক ৩২০ টাকা বিক্রি করছি। পাখি শিকার অপরাধ এটা জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপরাধ তো জানি, কিন্ত পেটের দায়ে পাখি শিকার করি।’
 
পূবর্ধলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের দুলাল মিয়া বলেন, ‘পাখি মারতে আমাদের কেউ কোনো দিন নিষেধ করেনি। শহর থেকে বন্দুক নিয়ে মানুষ পাখি মারতে আসে। তাই আমরাও মারি।’
 
গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাদিকুর রহমান বলেন, নির্বিচারে পাখি নিধনের কারণে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্টের পাশাপাশি ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ পাখিরা ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। নির্বিচারে নিরীহ পাখি নিধন করা হলে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
 
গৌরীপুরের ইউএনও মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘পাখি শিকার ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অচিরেই এই পাখির হাট বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ