প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্প নগরী আজো পূর্ণতা পায়নি। ৪৪ একর জমির ওপর স্থাপিত ৮৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে ৬৪টি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। ১০টি উত্পাদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ব্যাংকের কাছে ঋণ খেলাপি। ব্যাংকের পাওনা আদায়ের জন্য আগামী মাসে চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিলামের লক্ষ্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর শ্যামগঞ্জ মৌজার শিরোমনিতে শিল্প নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে ১৯৬৫ সালের ৮ মার্চ কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। ১৯৭৮ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ ২৪০টি প্লটের বিপরীতে ৮৮টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। চালু হওয়া ৬৪টি ইউনিটের মধ্যে ২৩টি খাদ্যজাত, তিনটি পাটজাত, ছয়টি বনজ, ৩০টি কেমিক্যাল, ১৩টি প্রকৌশল শিল্প, পাঁচটি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, দুইটি ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স এবং বাকিগুলো চামড়াজাত, বস্ত্রজাত ও গ্লাস সিরামিক। চালু প্রতিষ্ঠানে ৪৫৪৪ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। উক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ৪৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
সূত্র জানায়, রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, মহাসিন টেক্সটাইল, নাহিদ উলেন, বারী ইন্ডাস্ট্রিজ, সোহানা ইন্ডাস্ট্রিজ, মধুমতি কোক অ্যান্ড ব্রিকেট, মডার্ন সিপি, জামান অ্যাসোসিয়েট, সায়রা এগ্রো লিমিটেড, এআরএ ফ্লাওয়ার্স মিল, ওয়ার্ক লেদার, এশিয়ান প্যাকেজিং, এক্রোরিসোর্স, এলার্ম ইন্ড্রাস্ট্রিজ, খুলনা পেপার বোর্ড অ্যান্ড প্যাকেজিং ইত্যাদি।
বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা রওশন আরা বেগম বলেন, ব্যাংক ঋণের বোঝা, পণ্য বাজারজাতকরণ করতে না পারা, শিল্প ইউনিট বরাদ্দ নেওয়ার পর মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব শিল্প ইউনিট রুগ্ন হিসেবে পরিণত হয়েছে।
