বাণিজ্যিক পণ্য চালান ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের বর্ণনা, পরিমাণ, ওজন, মূল্যের ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণায় রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বন্দরে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আসে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান দ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা পণ্যের পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে এনবিআর। বন্দরে পণ্য পরীক্ষায় থাকবে স্থানীয় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা। অসম্পূর্ণ বর্ণনা সংবলিত পণ্য চালানের বিষয়ে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে ওই সব পণ্য চালান পরীক্ষায় আলাদা গুরুত্বও দেওয়া হবে। সমপ্রতি এনবিআর থেকে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজকে নির্দেশনা দিয়ে ‘জরুরি’ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেশকিছু বাণিজ্যিক আমদানিকারক ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যেই পণ্যের সঠিক বর্ণনা বিল অব এন্ট্রিতে উল্লেখ করেন না। এর সঙ্গে যোগসাজশ থাকে সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষেরও। এ জন্য ১৫ ডিসেম্বরের আগে আমদানিকৃত পণ্যের সঠিক বর্ণনা, পরিমাণ, ওজন, মূল্য, পণ্যের উত্পত্তি দেশ, ব্র্যান্ড ছাড়াও ঋণপত্র (এলসি), ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্ট দলিলে উল্লেখ করার বাধ্যবাধ্যকতা দেয়া হচ্ছে। এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, অন্যথায় এসব পণ্যের বিষয়ে ১৫ ডিসেম্বরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি জরিমানা এমনকি ওই পণ্য জব্দও হতে পারে।
বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খেলনা, জুতা, তালা, কসমেটিক্স, টর্চ লাইট, অটো রিকসা এবং এ জাতীয় অন্যান্য পণ্য চালান শুল্ক স্টেশনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের (কমপক্ষে যুগ্ম কমিশনার) পরীক্ষা করে শুল্কায়নের নির্দেশনা দিয়ে এনবিআর এর আগেও একটি চিঠি পাঠায়।
তবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল এক তৃতীয়াংশ। ফলে সবগুলো পণ্য চালান সঠিকভাবে কায়িক পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ইস্যুটি তুলে ধরে চলতি মাসের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার এ এফ এম আব্দুল্লাহ খান এনবিআরে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে জনবল সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরে সব পণ্য চালান এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার বিষয়টি কার্যত ‘অসম্ভব’ বলে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক পণ্যের চালানের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৮০টি। আর চলতি অর্থবছরের গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৭৪টি। প্রতি মাসে ২০ কার্যদিবস হিসেবে দৈনিক এরূপ পণ্য চালান ৩৭টি। বর্তমানে জেটির দায়িত্বে একজন যুগ্ম কমিশনার পদস্থ রয়েছেন। অন্যদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন সহকারি পরিচালক ও একজন উপ-পরিচালক রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে দৈনিক ৩৭টি পণ্য চালান পরীক্ষা করে মূল্যায়ন করা বাস্তবতার নিরিখে একেবারেই অসম্ভব হবে।
ওই চিঠিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তীব্র জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৪৮৭ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত ১৫৬ জন। অনদিকে সহকারি কিংবা ডেপুটি কমিশনারের অনুমোদিত জনবল ৬৩ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে এনবিআরে সামপ্রতিক সময়েই চার দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
