দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারিকরণ কমিশন বিলুপ্ত করে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
আগামী দুই বছরের বিনিয়োগ সুবিধা বাড়িয়ে এই বিডাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামের মধ্যে নিয়ে আসতে চান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম। সেইসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে অনলাইন সুবিধাসহ ওয়ান স্টন সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম্ব) এর মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় মূল বক্তা ছিলেন, নবগঠিত বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। অ্যামচেম্ব প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য দেন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম বলেন, একসময়ের কৃষি ভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে। এখন আমাদের প্রয়োজন মান সম্পন্ন বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, এর কার্যালয় যেখানেই হউক না কেনো, বিডাকে গড়ে তোলা হলে প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত করে। এর ফলে বিনিয়োগকারীগণ বিশ্বের যেকোন স্থান হতে এর সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যবসায়ীদের ওয়ানস্টপ সুবিধা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সুবিধা দেয়ার জন্য একটি আইনী কাঠামো করা হচ্ছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এই পাশ করার জন্য উপস্থাপন করা হবে। চার থেকে ৬ মাসের মধ্যে ওয়ানস্টপ নীতিমালা তৈরি হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের ডুইং বিজনেস সূচকে আমরা যে অবস্থানে রয়েছি সেখান থেকে আরো উপরে উঠতে হবে। যদি তিন বছরে আমরা শীর্ষ একশ দেশের তালিকায় আসতে চাই সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিবেশ আরো উন্নত করে প্রতিবছর কমপক্ষে ২৫ ধাপ উঠে আসতে হবে।
বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের বড় বিনিয়োগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের, তারা আরো বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী গত অর্থবছরে ৪৫ কোটি ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ এসেছে বাংলাদেশে। সবমিলিয়ে ৩২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৭০টি নতুন বৈদেশিক বাজার প্রস্তুত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এবছর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, রসায়ন, তথ্য প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আমলাতন্ত্রের ধীরগতি এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ডুইং বিজনেস প্রতিবেদনেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূচনা বক্তব্যে অ্যামচেম্ব প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রচুর বিনিয়োগ সম্ভাবন রয়েছে কিন্তু সম্ভাবনার তুলনায় বৈদেশিক বিনিয়োগ কম আসছে। দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক কাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। সেইসাথে অবকাঠামোর উন্নয়ন বিশেষ করে সরকারি সেবার মান আরো উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
