চার মাস হয়ে গেলেও গুলশানের হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার নেপথ্যের নব্য জেএমবি’র ১০ নেতাকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। ঐ হামলার ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের জঙ্গি বিরোধী অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩৩ জন জঙ্গি নিহত হয়। এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক, নূরুল ইসলাম মারজান, বাশারুল্লাহ, রিপন, খালেদ, বড় ভাই মিজান, রাজীব গান্ধী, জুনায়েদসহ ‘নব্য জেএমবি’র ১০ শীর্ষ নেতা। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার দেখাতে পারেনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, নব্য জেএমবি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মেজর জিয়া ও মারজানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ গতকাল সোমবার পর্যন্ত মালিকপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়নি। হলি আর্টিজানের ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও বেকার জীবন-যাপন করছেন। সেখানে ২৪ ঘন্টা পুলিশ পাহারা থাকছে। এখনো স্বাভাবিক হয়নি গুলশান এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য। কূটনৈতিক জোনে অবস্থানরত বিদেশিসহ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। গুলশান-বানানী-বারিধারার সবগুলো পয়েন্ট, বিপণী বিতানসহ প্রায় সব বাসাবাড়ি সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কূটনৈতিক জোনে বিশেষ বাস ও রিকশা নামানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মাঝেও চাপা আতংক কাজ করছে গুলশান-বনানী-বারিধারা এবং বনানী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে। হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হামলার ঘটনার পর মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। ঘটনাস্থলে জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ টি গাড়ি, ১১ টি বাইসাইকেল, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট, নিহতদের মানিব্যাগসহ অন্তত শতাধিক মালামাল। এদের মধ্যে নিহত ১৭ বিদেশি নাগরিকের জব্দ করা মালামালগুলো সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের জব্দ করা মালামাল এখনও ফেরত দেয়া হয়নি।
এদিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ব্যবহূত অস্ত্রের উত্স নিয়ে রহস্য কাটেনি। তবে পুলিশ নিশ্চিত এই অস্ত্র এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশও স্বীকার করে বলেছে, অস্ত্র তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। তবে কারা এর মূল হোতা এবং এই অস্ত্রের তৈরির নেপথ্যে কারা রয়েছেন-তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা।
অপরদিকে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের পাশাপাশি অর্ধশত পুলিশ ও র্যাব সদস্য আহত হন। আহতদের অনেকেই এখনও সুস্থ হননি। র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, হাঁটুর ওপরে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়ার পর অপারেশন করা হয়েছে। প্রায় ২১ টি সেলাইয়ের পর এখন কিছুটা সুস্থের দিকে। তবে এখনো পুরোপুরি ফিট হতে আরও সময় লাগবে।
পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, এখনো শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিত্সা নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালালে সেখানে ৫ জন জঙ্গি ও ১ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়।
