পুঁজিবাজারে ২০১৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট শেয়ার ক্রয় আগের বছরগুলোর তুলনায় ব্যাপকভাবে কমলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরে এখনো তিন মাসের তথ্য পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গড়ে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে ৩২২ শতাংশ। তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের গড় নিট বিনিয়োগ ছিল ১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর ২০১৬ তে তা দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ২৪ লাখ। নিট বিনিয়োগ বাড়ার কারণ হিসেবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে এখন নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। অনেকে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন। তাই বিদেশিদের নিট শেয়ার ক্রয় বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। বিশেষ করে যে কোম্পানিগুলো প্রতিবছর ভালো লভ্যাংশ দেয় এমন কোম্পানির দিকেই তাদের ঝোঁক বেশি। আর ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেসব শেয়ার কিনেছেন তারা সে শেয়ারগুলো ধরে রেখেছেন। লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে তারা মুনাফা করছেন। তাই ২০১৫ সালে নিট শেয়ার ক্রয় একটু কমেছিল। এখন নতুন বিনিয়োগকারী আসায় বিদেশিদের নিট শেয়ার ক্রয় বাড়তে শুরু করেছে।
ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, ২০১০ সালেই সবচেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। সে বছর তাদের ক্রয়ের তুলনায় বিক্রি অনেক বেশি ছিল। ওই বছরে ক্রয়ের তুলনায় ৬৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার বেশি বিক্রি করেছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এর কারণ হিসেবে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১০ সালের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে বাজারে শেয়ারের দাম বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে প্রায় সব শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আর সে সময়েই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই সে সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
তবে ২০১০-র ধসের পর শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমতে থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার ঝুঁকতে শুরু করেন। ২০১১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রয়ের তুলনায় ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বেশি শেয়ার ক্রয় করেন। ২০১২ সালে আরো বেশি করে ঝুঁকতে শুরু করেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ওই বছর নিট বিনিয়োগ হয় ৭৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে নিট বিনিয়োগ হয় ১৯৪২ কোটি টাকা। গত ৬ বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি শেয়ার ক্রয় করেন বিনিয়োগকারীরা। ওই বছর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ২৬১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। এরপর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট শেয়ার ক্রয় কমতে শুরু করেছে। ২০১৫ সালে নিট বিনিয়োগ ৯২ শতাংশ কমে ১৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ৫৮৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এদিকে পুঁজিবাজারের লেনদেনে দেশি বিনিয়োগকারীদের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবদান দিনে দিনে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশিদের শেয়ার কেনাবেচা মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বছরজুড়ে এ হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫৫ ও ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারত, এমনকি পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম। এমনকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, তাইওয়ানসহ আরো কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও এ দেশগুলোর মতো বিদেশি বিনিয়োগকারী আমাদের বাজারে আসেনি। এর একটি বড় কারণ হলো—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদানে বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউসেরই ব্যর্থতা রয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি হাউস বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সেবা দিয়ে থাকে।
