জানার জন্য ভ্রমণে

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:০২

  শারমিন তাসনিম

 

ফার্মেসিতে পড়া মানেই সারাদিন ক্লাস, ল্যাবরেটরিতে ওষুধ গবেষণা, ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিপণন ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ সম্পর্কে পড়াশোনা করা। এই রসকষহীন পড়াশোনাকে সামান্য বিরতি দিয়ে আমরা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগং (আইআইইউসি) এর তিনটি সেমিস্টারের মেয়েরা একত্রে সমুদ্রের টানে গিয়েছিলাম কক্সবাজার এবং দারুচিনি দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।

গত ৫ মার্চ মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিভাগের কয়েকজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকসহ আমাদের বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়ে। বাস ছাড়ার পর থেকেই যেন ট্যুরের আনন্দের মুহূর্তগুলো শুরু হয়েছিল। বাসের মধ্যেই নাচ, গান, কৌতুক, অভিনয় ইত্যাদিতে রাতের অন্ধকারেও জমে উঠেছিল আড্ডা। ৬ মার্চ ভোরে সমুদ্রের দেশ কক্সবাজার পৌঁছে হোটেলে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করেই বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকতে চলে যাই সবাই। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউগুলো একের পর এক আছড়ে পড়ছিল যেন আমাদের পায়ের কাছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমুদ্রের সঙ্গে এক অদৃশ্য সখ্যতা গড়ে উঠেছিল সবার। এভাবেই সাগরের সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করলাম। দুপুরে লাঞ্চ সেরেই আমরা বেরিয়ে পড়ি চান্দের গাড়িতে করে লং ড্রাইভে। পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা সবুজ, সমুদ্রের নীল জলরাশির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করি লং ড্রাইভে। রাতে সৈকতে বার্বিকিউ পার্টি আর নিজেদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথমদিনের উদযাপন।

পরেরদিন সকালে কক্সবাজার থেকে টেকনাফে পৌঁছেই জাহাজে করে একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে সকলের যাত্রা শুরু হয়। জাহাজ থেকে একপাশে বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বন এবং অন্যপাশে মায়ানমারের সবুজ পাহাড়, আকাশের শুভ্র মেঘ, নাফ নদী পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে আমাদের জাহাজ ছুটে চলে। সমুদ্রের ঢেউগুলো ছিল বেশ বড় আর সেটি ছড়িয়ে পড়েছিল জাহাজের প্রান্ত পর্যন্ত। শুভ্র সি-গাল পাখিগুলো জাহাজের সঙ্গে যেন পথ প্রদর্শকের মতো ছুটে চলেছিল। অনেকেই খাবার ছুড়ে দেন পাখিগুলোকে উদ্দেশ করে যা ছিল দেখার মতো। নান্দনিক নারকেল গাছের সারি, সাগরের ঢেউ ইত্যাদি দেখতে দেখতেই আমরা দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছে যাই। হোটেলে সামান্য বিশ্রাম নিয়েই নীল জলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে যাই দারুচিনির দ্বীপে।

ঝিরিঝিরি বাতাসের মাতাল করা পরিবেশে থেমে ছিল না সৈকতে সাইকেল চালানো। সমুদ্রের জলে এমন ভাবে মেতেছিলাম দিনের বাকি সময় কিভাবে চলে গেছে টের পাইনি। পরে রাতের বেলা বিচে মাছের বার্বিকিউ পার্টি, পিলো পাসিং, মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার সঙ্গে জোছনার আলোয় যেন মিলেমিশে একাকার। ৮ মার্চ সকালে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হই। প্রচুর প্রবাল, পাথর, কেয়া বনে নিজেরা হারিয়ে যাই কিছুক্ষণের জন্য। ওইদিন বিকাল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হই। রাতে কক্সবাজারে বার্মিজ মার্কেটে কেনাকাটা সেরে সৈকতে ফানুস উড়াই। ফানুসের আগুনের শিখায় বিচের আকাশ যেন রক্তিম হয়ে উঠেছিল। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অবশেষে রাত ২টায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেই। স্মৃতিগুলো আজীবন চিরসবুজ হয়ে মনে গাঁথা থাকবে।