‘ওয়ালটন বাংলাদেশের আইকন’

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:০৮
ওয়ালটনকে বাংলাদেশের আইকন বলে আখ্যায়িত করছেন বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। 
 
শনিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানায় পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী গ্রিন রেফ্রিজারেটর প্রকল্পের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য গর্বের ও আনন্দের বিষয়। আজ থেকে বাংলাদেশ এক নতুন যুগের সূচনা করল। বিশ্বের লেটেস্ট প্রয়ুক্তির ফ্রিজ আমরা উৎপাদন করছি।’
 
গ্রিন রেফ্রিজারেটর প্রকল্পের উদ্বোধনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী। 
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইচ উল আলম মন্ডল, ইউএনডিপির অ্যাসিসট্যান্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর খুরশিদ আলম, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এসএম জাহিদ হাসান, মো. হুমায়ুন কবীর, সিরাজুল ইসলাম, আশরাফুল আম্বিয়া, অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এসএম শাহাদাত আলম প্রমুখ। 
 
এর আগে উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ওয়ালটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপমন্ত্রী প্রথমে ওয়ালটনের প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এরপর এইচএফসি (হাইড্রোফ্লোরো কার্বন) গ্যাসমুক্ত গ্রিন রেফ্রিজারেটর উৎপাদন ইউনিটের উদ্বোধন করেন। তিনি সরেজমিনে ওয়ালটনের অন্যান্য উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেন। 
 
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন করে আমি অভিভূত, আনন্দিত, উজ্জীবিত। ওয়ালটন মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করছে। টেকসই পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ায় বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। 
IMG0
তিনি আরো বলেন, একসময় যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অপবাদ দিতো তারাই আজ বলছে, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুখী সুন্দর পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ আমরা গড়বই। 
 
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এক গ্রাম কেমিক্যালও ওয়ালটন ব্যবহার করে না। পরিবেশের প্রতি আমরা সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। 
 
তিনি আরো বলেন, ওয়ালটনের লক্ষ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে এই ব্র্যান্ডকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া। এজন্য বিশ্বের শীর্ষ বাণিজ্য মেলাগুলোতে আমরা অংশ নিচ্ছি। 
 
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এইচএফসি (হাইড্রোফ্লোরো কার্বন) গ্যাসের নিঃসরণ বন্ধে বিশ্ব নেতারা একমত হন। অথচ অনেক আগে থেকেই ওয়ালটন কারখানায় এইচএফসি গ্যাসের বিকল্প আর৬০০এ গ্রিন গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়েছে। তার আগে ২০১২ সাল থেকেই এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ওয়ালটন। 
 
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রিন টেকনোলজি ব্যবহার তথা পরিবেশবান্ধব টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ কাতারে নিজেদের নাম লেখালো।
 
আর ৬০০এ বিশ্বে গ্রিন গ্যাস হিসেবে স্বীকৃত। এটি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। এটি ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকর নয়।
 
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইচ উল আলম মন্ডল জানান, ইউএনডিপি এবং ইউএসএআইডি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে ফ্রিজে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এইচএফসি গ্যাসের পরিবর্তে গ্রিন গ্যাস আর৬০০এ গ্যাস ব্যবহারের প্রকল্প হাতে নেয় ওয়ালটন। যার সফল বাস্তবায়ন হলো আজ।
 
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একটা নতুন যুগের সূচনা হলো। ভবিষ্যতেও ওয়ালটনের জন্য আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি