মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন রাশিয়া সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। আর এ কারণে ৪৬টি রাজ্যে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
আশঙ্কা করা হচ্ছে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ভোটারদের সব তথ্য, বিশেষ করে নাম, ঠিকানা, ইমেইল ও টেলিফোন নম্বর মুছে ফেলা হতে পারে। এসব আক্রমণ প্রতিরোধে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে মিলিটারি সাইবার হান্টার ইউনিট প্রযুক্তির এই যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, সাইবার আক্রমণের সম্ভাব্য হুমকিদাতা দেশ রাশিয়া এবং এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য বা যেসব রাজ্যে এখনো ট্রাম্প কিংবা হিলারির মধ্যে এখনো কাউকে বেছে নেননি এমন ভোটারের সংখ্যা বেশি। ওহাইও রাজ্য এর মধ্যে অন্যতম। আর এ কারণে সেখানে মোতায়েন করা হচ্ছে বিশেষ মিলিটারি ইউনিট।
IMG0
সাইবার আক্রমণের এই হুমকির পর আবারো সামনে এসেছে রাশিয়ার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সখ্যতার বিষয়টি। নির্বাচনে প্রচারে ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচিত হলে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে রাশিয়ার এই সাইবার আক্রমণের মুল উদ্দেশ্য কী তাহলে ফলাফল পাল্টে দিয়ে ট্রাম্পের পাল্টা ভারী করা? এমন আশঙ্কা করছে এখন হিলারি শিবির।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকী। কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হবে ক্ষণগণনা। নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার ভোর ৬টা (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা) থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে অধিকাংশ রাজ্যে এই সময়ের হেরফের রয়েছে।
অধিকাংশ রাজ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে এবং তা চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচনে জয়ী হতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তে প্রচারযুদ্ধ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিডিয়া যে ‘নিয়ামক’ শক্তি তা প্রমাণিত হয়েছে গত কয়েকদিনের জরিপে। রবিবার সিএনএন-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জয়ের ব্যাপারে হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান আরো কমে এসেছে। জরিপে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৪৬ শতাংশ বলা হচ্ছে। সেখানে ট্রাম্প ব্যবধান কমিয়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছে গেছেন। জরিপে হিলারি এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের প্রচার কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছেন না হিলারি।
IMG1
হিলারি সমর্থকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনে অর্থের খেলা চলছে। অর্থের জোরে বিভিন্ন মিডিয়ার রিপোর্ট পাল্টে যাচ্ছে। এমনকি শনিবার নেভাদায় ট্রাম্পকে সমাবেশ মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেও অনেকে সাজানো মনে করছেন, যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এর আগের দিন কলোরাডোতে ট্রাম্পের নির্বাচনী কার্যালয় কে বা কারা তছনছ করে। এ ঘটনাটিও প্রশ্নবিদ্ধ এখন। এসব কেবলই প্রচারণা এবং এর মাধ্যমে ট্রাম্প ভোটারদের সহানুভূতি পেতে চাইছেন বলে মনে করছেন ডেমোক্রেটরা।
স্থানীয় সময় শনিবার নেভাদা রাজ্যের রিনোতে নির্বাচনী প্রচারসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ একজন বন্দুক, বন্দুক বলে কেউ চিৎকার করে ওঠেন। তড়িঘড়ি মঞ্চ থেকে ট্রা¤পকে নামিয়ে নেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা।
এ ভয়টা যে মিথ্যা ছিল তা দু-এক মিনিটের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে যায়। একজনকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একটু পরেই মঞ্চে ফেরেন ট্রাম্প।
এরপর তিনি সেখানে বলেন, ‘নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য সহজ না। কিন্তু আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।’ এসময় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা খুবই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর। তাদের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’
যদিও এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপদের আশঙ্কায় নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিলেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে প্রায়ই অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা নতুন কিছু নয়। এই বিশৃঙ্খলার রেশ নির্বাচনে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাকে অমূলক বলছেন না ভোটাররা।
মার্কিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ভোটের দিন ডেমোক্রেট ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেবেন ট্রাম্প সমর্থকরা। বিশেষ করে যেসব রাজ্য একচেটিয়া ডেমোক্রেটদের দখলে। ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি নিউইয়র্কে ভোটের আগের দিন হামলা করতে পারে আল-কায়েদা।
রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো উদ্বিগ্ন থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সব আশঙ্কাকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন। এর আগেও নিউইয়র্কে এ ধরনের হামলার হুমকি এসেছে বহুবার। তখন মেয়র ব্লাজিওকে বলতে শোনা গেছে, নিউইয়র্ক নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
এদিকে জনমত জরিপে হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান কমে আসায় ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে হতাশা বাড়ছে হু হু করে। কিছুদিন আগেও যেখানে নিশ্চিত করে হিলারিকে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভাবতে শুরু করেছিলেন সেই ভাবনায় এখন ভাটা পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এখন আর জোর দিয়ে বলতে পারছেন না হিলারিই জিতবেন।
ইত্তেফাক/এসএসএ
