বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্ররা। চাল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে বহরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে। ৯নং ওয়ার্ডের বাঘুটিয়া গ্রামে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড পেয়েছেন এলাকার সচ্ছলরা। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যদের নামে রয়েছে এই কার্ড। ওই ওয়ার্ডের বাঘুটিয়া বাইতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী রূপালী বেগম দুইজনের নামে রয়েছে কার্ড। এছাড়াও একই গ্রামের সচ্ছল ব্যক্তি হানিফ আলি মৃধা যার বসতবাড়িটিই ৪৫ শতাংশ জমির উপরে তিনি ও তার ছেলে বাবলু মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে নিয়েছেন ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড। এমন অনেক সচ্ছল ব্যক্তির লোভ ও কারসাজিতে বঞ্চিত হয়েছে গ্রামের অসহায় হতদরিদ্র, বৃদ্ধ, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। এদিকে কাউন্সিলর (মেম্বার) আরব আলী সেখের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলেছেন অসহায় অসচ্ছল মানুষ।
৯নং ওয়ার্ডের বয়স্ক বিধবা তারা বিবি (৬০) বলেন, তিনি অন্যের জমিতে ছাপরা ঘর করে থাকেন। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অনেকদিন আগেই মারা গেছেন। এখন তিনি খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন। সরকারের দেয়া ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড তিনি পাননি। মেম্বারের কাছে অনেকবার চেয়েও মেলেনি চালের কার্ড। কিন্তু এলাকায় যারা বড়লোক তারা কার্ড পেয়েছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নে বাঘুটিয়া বাইতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সালাম জানান, কার্ডে যে চাল পাওয়া গেছে তা দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খোরাকি দেয়া হয়েছে।
এদিকে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরব আলী সেখ বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা। তিনি নিয়মমতোই কার্ড বিতরণের চেষ্টা করেছেন। তবে যদি সচ্ছল ব্যক্তিরা কার্ড পেয়ে থাকে তা খতিয়ে দেখে পরিবর্তন করে গরিবদের দেয়া হবে।
বহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, ৯নং ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি কার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবর্তনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, অবশ্যই অসহায় মানুষের কার্ড অসহায়রাই পাবে।
ইত্তেফাক/এএন
