বড় বড় গর্ত, গর্ত ভর্তি পানি, বালি, ইট সুরকি, কালভার্ট দিয়ে বেহাল দশা হোসনি দালান চানখাঁরপুল এলাকার রাস্তার। প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের স্কুলে ও অফিস আদালতে যাওয়া এবং চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে এলাকাবাসীর। দেড়বছর যাবত ধুঁকে ধুঁকে চলছে ফ্লাইওভার পরবর্তী রাস্তা মেরামতের কাজ। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী আর ব্যবসায়ীরা।
এলাকায় ৩৫ বছর বাসবাসকারী মাসুম রেজা রাজিব বলেন, ফুটপাত আর রাস্তার মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। নর্দমাগুলো কবেই বন্ধ হয়ে উপচে পড়ছে নোংরা পানি। এখানে আসতে চায় না কোনো যানবাহন। তাই বাড়ির ভাড়াটিয়া চলে গেছে। শিশুরা প্রতিদিন স্কুলে যায় বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে। এই বিপদ থেকে রেহাই দিতে বাচ্চাদের ওয়ারীতে নিজের অন্য বাড়িতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। নিজের এ বাড়িতে ভোগান্তি না সইতে পেরে মাঝে মধ্যে বাড়িও বেঁচে দিতে ইচ্ছে করে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, যেখানে কোনো ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না সেখানে ক্রেতা পাবেন কোথায়। মো. নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, অফিস গোডাউন খালি পড়ে আছে ভাড়া দিতে পারছেন না। এই রাস্তার বিপরীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-দুই অবস্থিত হলেও রোগীদের হাসপাতালে নিতে তাদের চরম বিপর্যস্ত হতে হয়। বগুড়া মটরস এর ইলিয়াশ হোসেন আখন্দ জানান, এখনই একটি গাড়ি এসে ফিরে গেছে তিনি সেবা দিতে পারেনি। প্রতিদিনই তার লোকসান গুণতে হচ্ছে রাস্তার জন্য। আগে অনেক গাড়ি সারিয়ে তার ভালই আয় হলেও আজ পথচেয়ে থাকতে হয়। নিজের বাড়ি তাই ভাড়াগুণতে হয় না বলে বেঁচে আছেন বলেন ইলিয়াস।
৪০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাসকারী আতাউর রহমান জানান, তার তিন নাতি ইউনির্ভাসিটি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল ও উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে। গত দেড় বছর যাবত তাদের স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। রাস্তার চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে স্কুল যেতে প্রতিদিনই তাদের ছোটখাট হেনস্তা হওয়ার ঘটনা ঘটে। উদয়ন স্কুলের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: ইয়াসিন আহমেদ আনাসের অভিযোগ, আর কত দিন তাদের কষ্ট করে স্কুলে যেতে হবে। অন্যদের মতো তার দাদাও যদি বাড়ি বদল করত তাহলে সুবিধা হত, আর রাস্তা ঠিক হলে তারা আবার ফিরে আসতো। এই এলাকায় অবস্থিত চাঁন কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপক মো: ওয়াকিল ইত্তেফাককে জানান, গত বছর তাদের ৯০ শতাংশ গ্রাহক কমে গেছে। সামনে বিয়ের মৌসুম আসছে, এখন পর্যন্ত তেমন একটা বুকিং নেই। এবারও গত বছরের ন্যায় তাদের ব্যবসা হবে না বলে মন্তব্য করেন ওয়াকিল। তাদের স্টাফদের বেতন ও বিভিন্নরকম বিল দেয়াই কষ্ট হয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসী জানায়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার পর থেকেই তাদের রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে কিন্তু এগুচ্ছে না। বেশ কয়েকবার তারা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগ করেও কোনো ফল হয়নি।
এতোসব অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব রেজাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, দেড় বছর ধরে এতটুকু রাস্তা মেরামত চলতে পারে না। আর দাক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, এই রাস্তার জন্য তাদের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু হবে।
ইত্তেফাক/এএন
