ভাসমান মানুষ ও পথচারীদের ব্যবহারের জন্য রাজধানীতে মোবাইল টয়লেটের (ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারের) ব্যবস্থা করা হলেও মান ভালো না হওয়ায় আকৃষ্ট করা যায়নি সব শ্রেণি পেশার মানুষকে। আবার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানের অভাবেও এসব টয়লেটে সৃষ্টি হয়েছে দুরবস্থা।
রাজধানীতে বসবাসরত ভাসমান মানুষই রয়েছেন কয়েক লাখ। এসব মানুষ শৌচাগার ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এদের বেশিরভাগই পার্ক কিংবা সড়কের পাশেই মল-মূত্র ত্যাগ করছেন। এছাড়া নগরীতে প্রতিদিন চলাচলকারী সাধারণের ব্যবহার উপযোগী গণশৌচাগারের সংখ্যাও অনেক কম।
রাজধানীতে পথ চলতে গেলে অনেক সময় মানুষের মল-মূত্রের গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা হয়। নাকে কাপড় চেপেও এসব স্থানের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। মল-মূত্র থেকে ছড়াতে পারে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধিও। সব দিক বিবেচনায় এসব মোবাইল টয়লেট হতে পারত ভালো বিকল্প।
ওয়াটার এইডের আর্থিক সহায়তায় ২০১১ সালের নভেম্বরে এ্যাসোসিয়েশন ফর রিয়েলাইজেশন অব বেসিক নিডস (আরবান) নামে সাড়ে চার বছর মেয়াদী এ প্রকল্পটি চালু হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪৬টি মোবাইল টয়লেট তৈরি করা হয়, যার ৩৬টি নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। বাকি দশটি ব্যবহূত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। এখন দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এসব শৌচাগারের বেশিরভাগের অবস্থাই বেহাল। আবার নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ ছাড়া কেউই খুব একটা এ মোবাইল টয়লেট ব্যবহার করছে না।
নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের পাশেই এরকম একটি মোবাইল টয়লেটকে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরিত্যক্ত মোবাইল টয়লেটটির পাশেই মূত্রত্যাগ করছেন পথচারী থেকে শুরু করে রিকশা চালকরাও।
নিউমার্কেটের মোবাইল টয়লেটটির পাশেই কথা হয় রিকশা চালক মো. আনোয়ারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এইডা (মোবাইল টয়লেট) চালু থাকলে রাস্তার পাশে বইতাম না, টয়লেটেই যাইতাম। রিকশা চালাই পাঁচ-দশ ট্যাকা লাগলে দিতে রাজি আছি কিন্তু এইডা তো বন্ধই থাহে। কুন রাস্তার পাশেই সরকারের টয়লেট নাই।’
শৌচাগারটির পাশেই কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসব টয়লেট পাবলিক টয়লেটের বিকল্প হতে পারত। কিন্তু নোংরা পরিবেশ এবং মান ভালো না হওয়ায় অনেকেই যেতে চায় না। আর বন্ধ পড়ে থাকলে কি অবস্থা হয় তাতো দেখতেই পাচ্ছেন।’
এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, জাতীয় প্রেসক্লাব, পান্থকুঞ্জ, বনানী পুলিশ ফাঁড়ি এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি মোবাইল টয়লেট রয়েছে। কিন্তু টয়লেটগুলোর অবস্থান এবং পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এগুলো সাধারণ মানুষকে খুব একটা আকৃষ্ট করতে পারেনি।
২০১১ সালে বেসরকারি সংস্থা ‘নগর গবেষণা কেন্দ্র’ পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের গণশৌচাগার ব্যবহারের চাহিদা আছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৬৯টি গণশৌচাগার থাকলেও তার মধ্যে মাত্র ৪৭টি ব্যবহারের উপযোগী বলে ওই উঠে আসে গবেষণায়। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই নারী, প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারের উপযোগী নয়। এছাড়া নগরীতে প্রতিদিন চলাচলকারী সাধারণের ব্যবহার উপযোগী গণশৌচাগারের সংখ্যাও বেশি নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানী ঢাকা হবে উন্নয়নের রোল মডেল। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে দক্ষিণ সিটিতে আরো ১০০টি পাবলিক টয়লেট করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে এসব টয়লেট নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
ইত্তেফাক/এএন
