ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খরস্রোতা ধরলা নদীর বুকে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। এসব চরের পলিমাটিতে এখন ধান চাষাবাদ করেছেন কৃষক। আর এভাবে ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নদীটি। ধরলা নদীতে ১০-১২ বছর আগেও পানির প্রবাহতা ও প্রাণের স্পন্দন ছিল লক্ষণীয়। এই নদীর প্রবল স্রোতের কারণে আঁতকে উঠতো ধরলা পাড়ের বাসিন্দারা। ধরলা পাড়ের কৃষক বাবুল মিয়া, রফিকুল, আজিজুল, আব্দুর রহমান, জয়নালসহ অনেকে জানান, একসময় এই ধরলা নদীই আমাদের ঘর-বাড়ি, আবাদি জমি-জমাসহ সবকিছুই গিলে নিয়েছে। সেই ধরলা এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালের জেলাকে স্মরণকালের বন্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ধরলার আগ্রাসী রূপ দেখেছে অনেকে। নিঃস্বও হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ধরলার বুকে ইরি-বোরো চাষবাদ করছেন প্রান্তিক চাষিরা। জমিতে পানি দেওয়ার অসুবিধা হলেও ধরলার বুকে ইরি-বোরো চাষাবাদ ভালোই হচ্ছে। তারা আশা করেন, এ বছরও ফলন ভালোই হবে। ইরি-বোরোর সবুজ ফসলেই ভরে গেছে ধরলার বুক। এ যেন এক সবুজের সমারোহ। অন্যদিকে ধরলার বুকে অসংখ্য চর জেগে নদী ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকায় দেখা দেয় পানিবাহিত রোগ। সেই সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগও লেগে থাকে সারাবছর।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এ উপজেলায় ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। চাষাবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর। এছাড়াও নদী অববাহিকার কৃষকরা ১৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। তবে এটি আমাদের কৃষি অফিসের আবাদি জমির হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুমা আরেফিন বলেন, নদী রক্ষা কমিটির সভায় পুনঃখননের বিষয়টি উপস্থাপন করবো। আশাকরি কমিটি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
