নিউইয়র্কসহ সারা আমেরিকা জুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্কে ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছে। তারা ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতি বাতিল করে পপুলার ভোটে জয়ী হিলারি ক্লিনটনকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার দাবি জানান।
গত ৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম ইন্টারভিউ দিয়েছেন সিবিএস টেলিভিশনকে। সেই ইন্টারভিউতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি যারা অপরাধ করেছে এমন প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করবেন। এছাড়া মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরি করার কথাও বলেছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইন্টারভিউ দিচ্ছেন ঠিক সেই দিনই নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বহিষ্কারের ঘোষণায় পুরো ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে ভীতির সঞ্চয় হয়েছে।
সেই বিক্ষোভ সমাবেশে তারা অভিবাসীদের অধিকার, সমকামীদের অধিকার, নারীদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। উত্তাল এই বিক্ষোভকে নিউইয়র্ক পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে সামাল দেয়। এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন বর্ণের এবং ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য কমিউনিটির লোকজনের সাথে বাংলাদেশিরাও অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাদের ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করে। বিক্ষোভ সমাবেশের স্লোগান ছিলো, ট্রাম্প আমাদের প্রেসিডেন্ট নন, কারণ তাকে আমরা ভোট দেইনি। ভোটে জিতেছে হিলারি, ট্রাম্প নয়। ট্রাম্প অবিলম্ভে বিদায় নিতে হবে। ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।
IMG0
আমেরিকার অবৈধ অভিবাসীদের একটি বড় অংশ মেক্সিকোর। তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তিনি সীমান্তে দেয়াল তৈরির কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার খরচ তিনি মেক্সিকো থেকে আদায় করবেন বলেও জানান। মেক্সিকো সীমান্তের কিছু অংশে দেয়ালের পরিবর্তে কাঁটা তার বেড়া দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি তা মানবেন কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিছু অংশে দেয়াল তোলাই হবে সঠিক পদক্ষেপ। আমি অন্তত তাই মনে করি। তবে নির্দিষ্ট কিছু অংশে কাঁটাতার দেয়া যেতে পারে।
হিলারি ক্লিনটনের বিচার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আরো চিন্তা করতে হবে। তবে আমার প্রথম কাজ হবে চাকরি সৃষ্টি করা এবং আমেরিকানদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।
সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, দুই কন্যা ইভাঙ্কা ও টিফানি এবং দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ট্রাম্প জুনিয়র সঙ্গে ছিলেন।
ইত্তেফাক/এএসএস
