মৌলভীবাজারের কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে কেওলার হাওর ও আশপাশের এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় ৭০ শতাংশ রোপা আমন এবং গত বোরো মৌসুমে অকাল বন্যায় এলাকার কৃষকদের আধাপাকা ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। কেওলার হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদী সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বছর জলাবদ্ধতায় কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধসহস্রাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সহস্রাধিক হেক্টরের জমির ফসল নিমজ্জিত এবং কয়েক হেক্টর জমির আলু, টমেটো, শাক-সবজি ক্ষেত তলিয়ে যায়। বন্যার পানি নিম্নাঞ্চল কেওলার হাওর দিয়ে মনু নদীতে নিষ্কাষিত হয়। কিন্তু লাঘাটা নদীতে বিভিন্ন কারণে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কেওলার হাওরসহ আশপাশ এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে জলাবদ্ধতায় মুন্সীবাজার, শমশেরনগর ও পতনউষার ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে পাঁচশত কিয়ার জমির উঠতি রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান, ফজলু মিয়া, পতনউষারের নসাদ মিয়া, রমজান আলী, রনজিত দে, নাইওর মিয়া, বাদশাহ মিয়া, ছমরু মিয়া, সন্তোষ দে ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কৃষক মোজাহিদ আলী বলেন, গত বোরো মৌসুমে ফসল ঘরে তোলার সময় বন্যার পানি আর জলাবদ্ধতায় আমরা বোরো ফসলে মার খেয়েছি। বোরো ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেওলার হাওরের আশপাশ এলাকায় প্রত্যেকেই আমন উত্পাদনে মনোযোগী হয়েছি। আধা পাকা অবস্থায় হঠাত্ করে বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সম্পূর্ণ ফসলই বিনষ্ট হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার নয়।
কৃষক তোয়াবুর রহমান তবারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেওলার হাওরের চতুর্দিকে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এগুলো লিখেও ভুক্তভোগীদের কোনো উপকারই হয় না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সবসময়েই অবহেলিত থাকেন। সরকারি সুযোগ সুবিধা পান না। লাভ হয় জনপ্রতিনিধি আর সরকারি কর্মকর্তাদের। তিনি আরো বলেন, লাঘাটা নদী সংস্কার, বাঁধ মেরামত করলে এখানে জলাবদ্ধতা কমে যেত। অথচ এসব বিষয়ে কোনো প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয় না।
কমলগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল দেব বলেন, এখানে নিম্নাঞ্চল থাকায় আর লাঘাটা নদী দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় রোপা আমনেও কৃষকদের ফসল বিনষ্ট হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে পুরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
