যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান পুতিন। ফোনালাপে তারা সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করা এবং ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাত্ করার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প ও পুতিন একমত হন যে, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বর্তমান সম্পর্ক একেবারেই অসন্তোষজনক। এই সম্পর্ক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজও করতে হবে। তাদের আলোচনায় সিরিয়া ইস্যুও স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প-পুতিন। ফোনে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাফল্য কামনা করেন পুতিন। টেলিফোন কলটি প্রথম কে করেছেন সে বিষয়ে রাশিয়া কিছু না বললেও ট্রাম্পের একটি সূত্র জানায় পুতিনই প্রথম ফোন করেন। আর তখন ট্রাম্প বলেছেন যে, তিনি রাশিয়ার সরকার ও দেশটির জনগণের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার জন্য সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে নেতা হিসেবে তাকে রুশ প্রেসিডেন্টের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রেখেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, নেতা হিসেবে ওবামার চেয়ে অনেক অনেকগুণ এগিয়ে পুতিন। ওই সময় পুতিনও ট্রাম্পকে অসাধারণ ব্যক্তি ও সন্দেহাতীত মেধাবী মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন। মার্কিন নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর পর রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনগুলোতে ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলা হয়, জনগণের নেতার জয় হয়েছে।
কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ওবামার যুক্তরাষ্ট্র আর পুতিনের রাশিয়া। যার সর্বশেষ প্রকাশ ঘটেছে সিরিয়ায়। মস্কো সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর ওয়াশিংটন সমর্থন দিচ্ছে বাশার বিদ্রোহীদের। তবে মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস মিলছে।
বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে
ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ গতকাল দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ট্রাম্প ভয় না পাওয়ার কথা বললেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্য করার মতো। লসঅ্যাঞ্জেলসে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী একটি বিক্ষোভে অংশ নেয়। সিয়াটলে ২০টি স্কুলের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। সিয়াটলে শিক্ষার্থীদের ১০ শতাংশ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড, মন্টোগোমি কাউন্টি, মেরিল্যান্ড এবং সানফ্রান্সিসকোতে কয়েক হাজার তরুণ বিক্ষোভ করে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকায় এগিয়ে জুলিয়ানি
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি (৭২) পরবর্তী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তালিকায় এগিয়ে আছেন। তিনি ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন। এ ছাড়া মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে জন বল্টনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলে জাতিসংঘে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।
দুইশ’ দিনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প তার প্রথম দুইশ’ দিনে মূলত বাণিজ্য নীতিকে গুরুত্ব দিবেন। ক্ষমতা হস্তান্তরে গঠিত ট্রাম্পের একটি দল এই পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা) নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনায় ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
