ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ গতকাল ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল জনারণ্য। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অগণিত মানুষ শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগরণী দেশাত্মবোধক গান, স্লোগান আর মিছিলে মিছিলে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ দিনভর ছিল মুখরিত। হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধের কর্মসূচি শেষ করে সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকষ দলও অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, একেএম এনামুল হক শামীম, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, গোলাম রব্বানী চিনু ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সড়কে জমায়েত হতে থাকে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজারো জনতার ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মহিলা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, মত্সজীবী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুত্ শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান
‘সুস্থ জীবন’ ও ‘এডিআই’র শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা
এছাড়া ধানমন্ডি লেকপাড়ে প্রাতভ্রমণকারীদের সংগঠণ ‘সুস্থ জীবন’ ও বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘এসডিআই’ যৌথভাবে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করে। তারই অংশ হিসাবে গতকাল ভোরে ধানমন্ডি লেক পাড়ের সুস্থজীবন কর্ণার থেকে বের হওয়া বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে স্থানীয় একটি হোটেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সুস্থজীবনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং এসডিআইয়ের সিইও সামছুল হক সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান। আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মজুমদার গ্রুপের এমডি চিত্ত মজুমদার, যুগ্ম সচিব অসীম কুমার বালা, যুগ্ম সচিব শ্যামল সিংহ, সংগঠনের সহ সভাপতি খোকন চন্দ্র আইন, যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক নিখিল রঞ্জন দাশ, গুণীজন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মিজানুর রহমান প্রমুূখ।
