কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
নৌকায় ভোট দেওয়ায় কিশোরগঞ্জে বেশকিছু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরতলীর গাইটাল-ডুবাইল এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় সন্ত্রাসীরা রামদা, রড, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকার প্রায় ১৫-২০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের গাইটাল এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনার জন্য সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলামকে দায়ী করে তার বিচার দাবি করে শ্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গাইটাল-ডুবাইল এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম ও ইকরামসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ায় বিএনপি নেতা শহীদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আজিজুল হাকিমের স্ত্রী সুফিয়া জানান, সন্ত্রাসীরা হামলার পর তার ঘর থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সন্ত্রাসীরা অন্তত ১০ জনকে কুপিয়ে জখম করে বলেও তারা অভিযোগ করেন। হামলায় আহত শিরিন আক্তার নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
তবে লতিবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে গাইটাল-নামাপাড়া ও ডুবাইল এলাকার ছোট ছোট ছেলেদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে বলে জানান।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, নির্বাচনের দুইদিন আগে গাইটাল-নামাপাড়া এলাকায় ছোটদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়াঝাটি হয়। নির্বাচনের দিনও দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জেরেই হামলার ঘটনাটি ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
গোপালগঞ্জ গাড়ি ভাঙচুর ও ৪ জনকে মারপিট
এদিকে গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তু মুন্সির সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি এনায়েত হোসেন লিপনকে লাঞ্ছিত ও তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় বাজারে বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কবির মিয়ার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তারা জলিরপাড় বাজারে ননীক্ষীর ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অশোক মন্ডলকে মারপিট ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এরপর তারা ওই বাজারের ব্যবসায়ী ও মুক্তু মুন্সির সমর্থক মিলন শেখ, কাশেম ও ফরিদ মেম্বরকেও মারধর করেন।
ননীক্ষীর ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অশোক মন্ডল বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তু মুন্সি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন দেওয়ায় এনায়েত হোসেন লিপনসহ আমরা মুক্তু মুন্সির পক্ষে কাজ করি। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কবির মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরের দিনই খলিল শেখের নেতৃত্বে একদল লোক লিপন ভাইয়ের গাড়ি ভাঙচুরসহ আমাদের মারপিট করে। পাশাপাশি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখে।
