বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরে রাষ্ট্র গঠনের যে যুদ্ধ তা নিয়ে আলোচনা চলছিল একটি মঞ্চে, অপর এক মঞ্চে চলছিল ঢাকাই মসলিনের ভবিষ্যত নির্মাণের কথা। আরব সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিলেন দেশি বিদেশি সাহিত্যিক ও সমালোচকরা। খোলা মঞ্চে স্বকণ্ঠে নিজেদের কবিতা পাঠ করছিলেন কবিরা। দেশি বিদেশি দর্শনার্থী, লেখকরা মগ্ন হয়ে শুনছেন বাংলা কবিতা। পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা বিষয় নতুন নতুন দর্শন ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকা লিট ফেস্ট।
শনিবার পর্দা নামলো এই তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের। আয়োজক, মেলায় লেখক-প্রকাশকরা বললেন, তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন চিন্তা নতুন দর্শন ছড়িয়ে দেয়ার যে সম্মিলন এই উত্সবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তা ভবিষ্যতে সুন্দর সমাজ গঠনের পথ সৃষ্টি করবে।
এদিকে, লিট ফেস্টের জনপ্রিয় ইভেন্টে পরিণত হওয়া ‘গল্পকথন’ পর্বে গল্প শোনাচ্ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গল্পকথক ভিউয়েলা মালুলিকি। তার দারুণ একটি অধিবেশন চলছিল ঢাকা লিট ফেস্টের কসমিট টেন্টে। শিশুদের জন্য সেই সেশনে সববয়সী মানুষরাই উপস্থিত ছিলেন। গল্প বলা শেষে ভিউয়েলা মালুলিকি বললেন, কালোবর্ণের মানুষরা রাজনৈতিকভাবে ও সাদা মানুষদের দ্বারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কৃষ্ণাঙ্গদের একটা আলাদা সংস্কৃতি আছে। সেই সংস্কৃতিকেই প্রতিষ্ঠার জন্য কালো মানুষেরা কাজ করে চলেছে।
এদিকে, লিট ফেস্টে প্রথমবারের মতো এসেছিলেন ডা. রিজওয়ান ইসলাম ও সানিয়া সিদ্দিকী। তারা বললেন, এখানে ইংরেজি বইয়ের অনেক কালেকশন রয়েছে। এটা নতুন। সাধারণত দেশের যে কোনো মেলায় বাংলা ভাষার বই ছাড়া অন্য বই পাওয়া যায় না। এই উত্সবে নানা দেশের লেখকদের যেমন দেখা মিলছে তেমনি নানা স্বাদের বই পাওয়া যাচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উত্সবের আয়োজন করেছিল যাত্রিক। উত্সবে ১৮ দেশের ৬৬ জন বিদেশি এবং দেড় শতাধিক বাংলাদেশি সাহিত্যিক-লেখক-গবেষকরা অংশ নেন।
ইত্তেফাক/এএম।
