রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা চাই

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ০০:২৬

দুপুরের পর থেকে সেগুনবাগিচার কচিকাঁচা প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে মেয়েরা লাল-সবুজ শাড়ি পরে। শিশু-কিশোরদের পোশাকেও লাল-সবুজের প্রাধান্য। ভেতরে চলছে পুরোদমে রিহার্সেল। কারণ ঘণ্টাখানেক পরেই শুরু হবে শিশু-কিশোরদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার সফল অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়েই এই শিশু-কিশোররা তৈরি হচ্ছে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে।      

‘আমাদের দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি শহীদদের রক্তে কেনা, আমাদের জন্য। সেই দেশে আমরা সড়কে হত্যা আর দেখতে চাই না। আমরা নিরাপদ সড়ক চাই, চাই জীবনের নিরাপত্তা। দেশে এমন একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা চাই যেখানে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব থাকবে না। আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজটাকে যুগোপযোগী করে গড়তে চাই’—অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের পক্ষ থেকে এ দাবি উপস্থাপন করেন শিশুবক্তা নিশাত শারমিন নিশি। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিশি এ দাবি তোলেন।

এর আগে ‘আমি ভালোবাসি বাংলাদেশের প্রতি কণা মাটি’ দেশাত্মবোধক এই গানটি সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান সুরবিতানের শিশু—কিশোররা। অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন: মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সহ-সভাপতি ড. রওশন আরা ফিরোজ,  মেলার প্রবীণ সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল মহলানবীশ, শিশুবক্তা ফাইরুজ মালিহা অদ্বিতীয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেলার সদস্য শিশু রাজ্যশ্রী সাহা।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাঙালি চিরকালেই বিভক্ত জাতি ছিল। বঙ্গবন্ধু এর অবসান ঘটিয়ে ছিলেন। তবে দেশে ঘাপটি মেরে থাকা শত্রুদের আমাদের চিনতে হবে, যারা আমাদের গান-কবিতা-সংস্কৃতি পছন্দ করে না, তারাই আমাদের শক্র। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করা কঠিন, তবে তা রক্ষা করা আরো কঠিন। 

ড. রওশন আরা ফিরোজ বলেন, ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার রক্তের ওপর দিয়ে ২৬ মার্চ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে অলৌকিকভাবে যে ক’জন বেঁচে ছিলাম, তাদের মধ্যে আমি একজন। তিনি বলেন, স্বাধীন এই দেশে সবাই যেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বেড়ে ওঠে। আমরা যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি। কাজেকর্মে তার প্রমাণ দিতে হবে। 

বুলবুল মহলানবীশ বলেন, আমরা কচিকাঁচার মেলা থেকেই শিখেছি, কি করে দেশকে ভালোবাসতে হয়। শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধি পান। তার আগে তিনি ছিলেন শিশুদের বন্ধু। 

ফাইরুজ মালিহা অদ্বিতীয়া বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে এদেশের মানুষ নিক স্বাধীনতার স্বাদ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিশু-কিশোররা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন মেলার সদস্য প্রিয়তি ও সামিহা।