গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বীকৃতির নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কাতার, লেবাননও ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি’র
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছেন, গোলান মালভূমি আরবের। এটা জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। রিয়াদ এবং আবুধাবি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত শান্তির ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করবে। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এই শতকে অপ্রত্যাশিত। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, কেউ কল্পনা করতে পারে যে একটি দেশের ভূমি অন্য একটি দখলকৃত রাষ্ট্রকে কেউ দিয়ে দিচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিষয়ক দূত মিখাইল বোগডানোভ বলেছেন, গোলান নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিটেন গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্ব স্বীকার করে না। আমরা আগের অবস্থানেই আছি। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, গোলান মালভূমিতে ট্রাম্পের ইসরাইলি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন। ফ্রান্স এই স্বীকৃতি মেনে নেবে না। জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান অপরিবর্তিত। গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে কানাডা। আর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, দখলদার ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরো একবার আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন ঘটালো। কিন্তু তাদের স্বীকৃতি কখনো ইসরাইলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দেবে না। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে পাশে রেখে এই সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
