উত্তরা প্রকল্পের ৮ শতাধিক ফ্ল্যাট ডিসেম্বরে হস্তান্তর

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৬, ০০:৩৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পের ১০টি ভবনের ৮৪০টি ফ্ল্যাট চলতি বছরের ডিসেম্বরে ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অবশিষ্ট ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের বিক্রয়মূল্য কমিয়ে চার হাজার ৫০০ টাকা এবং সুদের হার শতকরা ৯ ভাগ করা হয়েছে।

 
রাজউকের উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্প সম্পর্কে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এখন থেকে রাজউকের উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পের মালিকরা ফ্ল্যাটের কিস্তি পরিশোধে ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন। এর জন্য রাজউক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মধ্যে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
 
জানা গেছে, রাজউকের উত্তরা প্রকল্পের ফ্ল্যাট ক্রয় করলে চুক্তি মোতাবেক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ক্রেতাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেবে। এ ঋণে সুদের হার হবে শতকরা সাড়ে আট ভাগ এবং কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ২৫ বছর। তবে ক্রেতাকে ফ্ল্যাটের মোট মূল্যের ৩০ ভাগ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট অর্থ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ঋণ হিসেবে প্রদান করবে।  
 
উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক ১৭৯টি ভবনে ১৫ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে। এর মধ্যে আট হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ১০টি ভবনের ৮৪০টি ফ্ল্যাট আগামী ডিসেম্বরে হস্তান্তর করা হবে। ১০০টি ভবন মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তিভিত্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে।
 
২১৪ দশমিক ৪৪ একর জমির উপর উত্তরায় এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে রাজউক। এখানে মোট আয়তনের প্রায় ৪৫ শতাংশ জায়গায় সবুজ বেস্টনি, উন্নতমানের স্কুল, খেলার মাঠ, মসজিদ, আধুনিক হাসপাতাল, জিমনেশিয়াম, বিনোদন কেন্দ্র, শপিংমল, লেকসহ প্রকল্পের আকর্ষণ বাড়াতে নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসব নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত জমিও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
 
দৃষ্টিনন্দন লেক ছাড়াও প্রতিটি বহুতল ভবনের বেসমেন্ট ও নিচতলায় গাড়ি পার্কিং সুবিধা থাকবে। বর্তমানে রাজউক এখানে ৪০টি এবং গণপূর্ত বিভাগ ৩৯টি ভবন নির্মাণ করছে। এছাড়া পূর্বাচলে ৬০ হাজার এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১১ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে রাজউক।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বল্প জমিতে অধিক মানুষের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 
পর্যায়ক্রমে এসব বহুতল ভবনও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
 
এ ব্যাপারে রাজউকের চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, খোলামেলা ও উন্মুক্ত পরিবেশে প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটই হবে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। স্বল্প আয়ের মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতেই সরকার এই আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ৮ শতাধিক ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে ফ্ল্যাট গ্রহীতাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন