বদলগাছীতে বন্ধ হচ্ছে না অবাধে বালু উত্তোলন, হুমকিতে ব্রিজ-ফসলি জমি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:২১

নওগাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনা নদী থেকে অবাধে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও নতুন নির্মাণাধীন ব্রিজ। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেনা অভিযোগকারী। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভগবানপুর মৌজায় বেগুনজোয়ার গ্রামের মো. তকিমদ্দীনের ছেলে জনাব আলীর প্রায় ৩ বিঘা জমির কিছু অংশ নদীর গর্ভে তলিয়ে যায় কিছু অংশ সেখানে ফসলী জমি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বালু ব্যবসায়ীরা ইজারা নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ইচ্ছে মতো সেখানে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু পরিবহন করে চলেছে। ট্রাক্টর চলাচলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলী জমি। তাছাড়া উপজেলার পাড়সোমবাড়ী বাজার খেয়া ঘাটে কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। 

বিধি মোতাবেক ব্রিজ থেকে ১কি.মি. দূর থেকে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও বালু ব্যবসায়ীরা সেখানেও কোন কিছুকেই গুরুত্ব না দিয়ে উক্ত সেতুটির খুঁটির ৫-৬ শত গজ দূর থেকে ড্রেজিং করে উত্তোলন করছে। গত বছর এই অপরাধে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বালু উত্তোলন বন্ধ করে। কিন্তু এ বছর আবারও ব্যবসায়ীরা ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করেই চলেছে। 

এ বিষয়ে বেগুনজোয়ার গ্রামের সানাউল হক, ওয়াজেদ আলী, কৃষক রানা, শরিফুল ইসলামসহ এলাকাবাসী বলেন, যেভাবে বালু উত্তোলন করছে তাতে বর্ষা মৌসুমে নির্মাণাধীন মুক্তিযোদ্ধা সেতু ও এ এলাকার মাঠের শতশত বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নিষেধ করলেও কোন কর্ণপাত করেনি বালু ব্যবসায়ীরা। ঐ এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকৃত নতুন ব্রিজটি ও এলাকার শতশত বিঘা ফসলী জমি রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। 

এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও শিখর আলী বলেন, মেসার্স তরফদার ট্রেডার্স নামীয় বালু লীজকারী প্রতিষ্ঠান এর সত্ত্বাধীকারী সাঈদ হাসান এর নিকট থেকে আমরা পাঁচজন মিলে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ডেকে নিয়ে বালু উত্তোলন করছি, আমরা অন্যায় কিছু করিনি। 

এ ছাড়া উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের একটি বসতবাড়ীর নিচে থেকে অবাধে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করে চলছে। ঐ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন নিষেধ করেও তারা শুনছেন না। মনে হয় ২/১বছর পর বসতবাড়ী নদীতে তলিয়ে যাবে। মেসার্স তরফদার ট্রেডাস প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধীকার সাঈদ হাসান এর সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পূর্ববর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। 


ইত্তেফাক/এমআই