হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বত্তরা। এতে মন্দিরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার গভীর রাতে উপজেলা বুল্লা গ্রামের বড় বাড়ির মন্দিরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরজমিনে ওই গ্রামের অমেরেন্দ্র রায়ের (বুধু মাষ্টার) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে স্থাপিত দুর্গা মন্দিরের নাট মন্দির আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় লোকজন।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো মোকলেছুর রহমান জানান, হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিণ)এসএম রাজু আহাম্মেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকতাদির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ও বুল্লা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অজিত কুমার রায় বলেন, ‘গত ৩০ অক্টোবর বুল্লা বাজারের ভিতর ইসকন মন্দিরে একটি চক্র হামলা করে। তখন ইসকন মন্দিরের সেবায়িত মোহন বংশি দাস বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করে। এই ঘটনা আপোষ নিষ্পত্তি করার জন্য একদল অমেরেন্দ্র রায়কে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু তিনি আপোষ করেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারনা।’
ইসকন মন্দিরের সেবায়িত মোহন বংশি দাস বলেন, ‘ মামলা করার পর একটি চক্র তা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। এই ইসকন মন্দিরের জায়গা দিয়েছিল অমেরেন্দ্র রায়। তিনি ইসকন মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দেয়ায় এলাকার অনেক লোক অমেরেন্দ্র রায়ের উপর ক্ষিপ্ত হয়। তারাই হয়ত এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।’
ইউপি সদস্য কাউছার মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি রাতেই সেখান যান। একটি মহল এই এলাকাকে উত্তেজিত করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ধলাই মিয়া বলেন, ‘এখানে হেফাজত ইসলাম শক্তিশালী। এই ঘটনার পিছনে তাদেরও হাত থাকতে পারে।’
অমেরেন্দ্র রায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ভাবে চলতে থাকলে আমাদের এলাকায় থাকা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা নিরাপত্তা চাই।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি উমর আলী মাষ্টার জানান, এলাকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকতাদির হোসেন জানান, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
