ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শিশু, ক্যান্সার রোগী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের কাছ থেকে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ নতুন করে আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক)। এ ঘটনায় অসুস্থ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল বন্দরে যাত্রীদের জনপ্রতি প্যাসেনজার টার্মিনাল চার্জ আদায় করার কথা ৪০.৭০ টাকা (রসিদ মোতাবেক)। কিন্তু প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৪১ টাকা থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। ইতিপূর্বে পাঁচ বছরের নিচে শিশু, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত ভ্রমণে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ নেয়া হতো না। কিন্তু নতুন কোন প্রজ্ঞাপন জারি ছাড়াই এ সব রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে প্যাসেনজার টার্মিনাল চার্জ। প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাঁচ থেকে আট হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। যার অধিকাংশ যাত্রী চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়।
বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে কর্মরত সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ ৫০০টাকা এবং টার্মিনাল চার্জ বাদ ৪০ টাকা ৭০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে। তবে প্রথম থেকেই শিশু, ক্যান্সার রোগী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী পাসপোর্ট যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভ্রমণ কর মওকুফ ছিল। চলতি সপ্তাহে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব রোগী যাত্রী প্রতি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে প্যাসেনজার টার্মিনাল চার্জ আদায়ে নির্দেশনা দেন তাদের।
বেনাপোল চেকপোস্টে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানান, প্রায় তিন বছর হচ্ছে কেবল টয়লেট সুবিধা ছাড়া এখানে কোনো আধুনিক যাত্রীসেবা চালু করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ প্রতিবছর টার্মিনাল ট্যাক্স বেড়ে চলছে। এর মধ্যে আবার অসহায় মানুষদের কাছ থেকে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ শোভনীয় দেখায় না।
ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে বেনাপোল বন্দরে আসা ক্যান্সার ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা জানান, আগে তারা যখন ভারতে গেছেন তাদের কোনো প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ দিতে হয়নি। কিন্তু এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ নিচ্ছে। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানান এই পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।
এদিকে বন্দরের প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল চার্জ যাত্রীপ্রতি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ৫০০ টাকা নির্ধারণ হলেও কর্তৃপক্ষ খুচরা পয়সা নেই অযুহাত দেখিয়ে ৪০ দশমিক ৭০টাকার স্থলে ৪১ টাকা থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ট্যাক্স ছাড়াও বাড়তি টাকা আদায় করছে তারা।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস (উপ-সচিব) জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই প্যাসেনজার টার্মিনার চার্জ চালু করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হোক আর রাজাকার হোক এখন থেকে সব ধরনের যাত্রীদের ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে বন্দরের কর পরিশোধ করতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
