গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত নিউজিল্যান্ডে নিহত পলাশ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪৮

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত নরসিংদীর জাকারিয়া ভূঁইয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় পলাশ উপজেলার জয়পুরা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

এর আগে গত ২০ মার্চ স্বামীর মরদেহ আনতে নিউজিল্যান্ডে যান স্ত্রী রিনা আক্তার। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার রাতে দেশে এসে পৌঁছায় জাকারিয়ার মরদেহ। 

সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পলাশ উপজেলার জয়পুরা গ্রামের বাড়িতে। মরদেহ পৌঁছার খবর পেয়ে একনজর দেখার জন্য জাকারিয়া ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজনসহ আশেপাশের গ্রামের লোকজন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনেরা। 

উপস্থিত এলাকাবাসী সান্ত্বনা দিয়েও থামাতে পারছিলেন না শোকার্ত পরিবারটিকে। কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা ও স্ত্রী রিনা আক্তার। এসময় সমগ্র গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বেলা ১১টায় গ্রামের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজে অংশ নেন এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। 

নিহত জাকারিয়ার ভগ্নীপতি শরীফ সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণের সময় তাৎক্ষনিকভাবে দাফন কাফনের জন্য সরকারি কোন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়নি। 

আরো পড়ুন: মসজিদে হামলা: নিউজিল্যান্ডের রাগবি খেলোয়াড়ের ইসলাম গ্রহণ

নিহত জাকারিয়ার বড় ভাই আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, জাকারিয়ার আয়ের উপর আমরা অনেকটা নির্ভরশীল ছিলাম, তার মৃত্যু শোক আমরা কী করে সইবো জানি না।

আড়াই বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ১৭ দিন পর চাকরি নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যান জাকারিয়া ভূঁইয়া। সর্বশেষ ৬ মাস আগে দেশে ফিরে ৪০ দিনের ছুটি কাটিয়ে নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান তিনি। স্ত্রী রিনা আক্তারকেও নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি শেষ করেছিলেন জাকারিয়া ভূঁইয়া। গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন জাকারিয়া ভূঁইয়াসহ ৫০ জন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ